রানীনগর-কালীগঞ্জ সড়ক

সংস্কারকাজে গতি না থাকায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

এম এ ইউসুফ, রানীনগর (নওগাঁ)

নওগাঁর রানীনগর উপজেলা সদরের গোল চত্বর থেকে সিংড়া উপজেলার কালীগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কটি কাদা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। দুই জেলার কয়েক হাজার মানুষ চলাচলে জিম্মি হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে পূর্বাঞ্চলের এই প্রধান রানীনগর-কালীগঞ্জ সড়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কের আধুুনিকায়ন তথা সংস্কার, প্রশস্তকরণ, নতুন কালভার্ট ও সেতু নির্মাণের জন্য আলাদা দুটি প্যাকেজে দরপত্রের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্কারকাজ চলছে একেবারে ঢিমেতালে, কাজ শেষ হওয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে? ইতিমধ্যে সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করণ কাজের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান কে কাজ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইরাফিল আলম এমপি এক প্রতিক্রিয়ায় রাণীনগর-আবাদপুকুর-কালিগঞ্জ সড়কের জনদূর্ভোগের বিষয়ে চরম ক্ষোভ, অসন্তোষ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকার প্রতি বছর সড়ক, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কিছু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কারণে জনগন যথাসময়ে তার সুফল পাচ্ছে না। হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগের কথা জানিয়ে অনতিবিলম্বে এই সড়কের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

নওগাঁ সড়ক ও জনপদ (সওজ) অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা হেড কোয়ার্টারের গোলচত্বর থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার কালিগঞ্জ বাজার সংযোগ পর্যন্ত প্রায় ২৩ কিমি সড়কের কাজ শুরু হয়েছে। সড়কের উভয় পার্শে প্রশস্ত করণ, সংস্কার ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য ৪৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে দরপত্রের মাধ্যমে স্পেক্টা ইন্টারন্যাশনাল লিঃ ও ওয়াইড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামক জয়েন্ট ভেনঞ্চার কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাজের সময়সীমা ১বছর ৪ মাস ১৫ দিন দেওয়া হলেও অর্ধেক সময় পার হওয়ার পরেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। সড়কটি অতি জনগুরুত্বপূর্ন ও উপজেলার পূর্বাঞ্চলের প্রধান সড়ক হওয়ার পরেও ঢিমেতালে কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার বেলঘড়িয়া গ্রামের কামাল হোসেন, করজগ্রামের জাহাঙ্গির আলমসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন পরিবহন চালকরা যানবাহনের ভাড়া ইতিমধ্যে বেড়ে দিয়েছে। যুক্তি হিসেবে চালকরা বলছেন, সড়কের যে বেহাল দশা এই অবস্থায় তাদের গাড়ীর যন্ত্রাংশ টিকছে না। টায়ার-টিউব ঘনঘন ফুটো হয়ে যাচ্ছে। একটুতেই গাড়ীর গ্লাসসহ ছোট যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে। এতে করে আগের মতো অতিরিক্ত ভাড়া ধরা যায় না। বর্ষাকালে তো এই দুর্ভোগ আরো চরমে উঠে যায়। যে সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পথচারী ও ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে সে সড়কটির কাজে কোন গতি এটি ভাবা যায় না।

নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, গত দুই থেকে আড়াই মাস কাজ বন্ধ থাকায় দরপত্র বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে ওই পত্র দেওয়ার পর থেকে কাজের গতি বেড়েছে। যথাসময়েই কাজ শেষ বলে আশা করছি।

 

"