কোটালীপাড়ায় কাজ না করে ৪ প্রকল্পের টাকা উত্তোলন

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জুন ক্লোজিং এর নামে ৪ টি প্রকল্পের কাজ না করেই ৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জুলাই মাসের ১১ দিন পার হলেও এসব প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু হয়নি। উপজেলার মৎস্য বিভাগের ৩টি ও প্রাণীসম্পদ বিভাগের ১টি প্রকল্প থেকে ৩০ জুনের আগেই এসব টাকা উত্তোলন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে ২-১ দিনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা বলেছেন।

উপজেলা পরিষদ কার্যালয় জানিয়েছে, গত অর্থ বছরের জুনের মাঝামাঝিতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার পিঞ্জুরী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে চাইটখালী খালে মৎস্য অভয়াশ্রম নির্মাণ, সাদুল্লাহপুর ইউয়িনের লাটেঙ্গা বিলে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত, আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার মৎস্য অভয়াশ্রম সংস্কার ও পিঞ্জুরী ইউনিয়নের সোনাখালী তারাইল গ্রামে গরু মোটাতাজা করণ এবং ক্ষুরারোগে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ টাকা করে।

আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার সংলগ্ন আমতলী গ্রামের মো. কবির হোসেন জানান, জুনে সিকির বাজার মৎস্য অভয়াশ্রমে কোন সংস্কার কাজ হয়নি। তাই অভয়াশ্রমটি কচুরিপানায় ভরে রয়েছে। এখানে মাছের প্রজননের কোন পরিবেশ নেই।

পিঞ্জুরী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বর নির্মল বিশ্বাস বলেন, সোনাখালী ও তারাইল গ্রামে এখনো গরুর ক্ষুরা রোগের ভ্যাক্সিনেশন করা হয়নি। ২-১ দিনের মধ্যে এটি করা হবে বলে পশু ডাক্তার জানিয়েছেন।

আমতলী সিকির বাজার মৎস্য অভয়াশ্রমের প্রকল্প সভাপতি বিপ্লব চক্রবর্ত্তী টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি সাদুল্লাহপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ড সদস্য আমাকে আমতলী ইউনিয়নের সিকির বাজার মৎস্য অভয়াশ্রমের প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে। আমি একদিন প্রকল্প এলাকা দেখতে গিয়েছি। অন্যদিন সেখানে বাঁশসহ মালামাল নিয়েছি। এ অভয়াশ্রমের সংস্কার কাজ শুরু করেই ২-১ দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলবো।

আমতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হান্নান শেখ বলেন, আমার ইউনিয়নের অভয়াশ্রম প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি উপজেলা পরিষদের সদস্য। এ ৪টি প্রকল্পের উপজেলা পরিষদের সভায় আমিসহ ১৩ জন সদস্য স্বাক্ষর করেনি। সদস্যদের স্বাক্ষর ছাড়া কিভাবে প্রকল্প পাশ হলো তা আমার বোধগম্য নয়।

ক্ষুরারোগে ভ্যাক্সিনেশন ক্যাম্পেইন প্রকল্পের সভাপতি ইলিয়াস খান বলেন, ৩০ জুনের আগেই টাকা উত্তোলন করেছি। ভ্যাক্সিন কিনতে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। ২-১ দিনের মধ্যেই আমরা ভ্যাক্সিনেশন শুরু করবো।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাশ বলেন, আমরা ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। দ্রুতই এ টাকা দিয়ে ভ্যাক্সিন কিনে আমরা ভ্যাক্সিনেশনের কাজ শুরু করব।

ইউএনও এস.এম মাহফুজুর রহমান টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, কোন কোন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। কোন কোন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। টাকা উত্তোলনের জন্য পৃথক কমিটি রয়েছে। তারাই এ টাকা উত্তোলন করেছেন।

 

"