শাহজাদপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইসগেট সংলগ্ন রাউতারা-নিমাইচড়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশের অস্থায়ী রিং বাঁধটি কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার সকালে দুই দফায় দুই স্থানে বাঁধ কেটে দেয় তারা। ইরি, বোরো মৌসুমে ফসলি জমি রক্ষার নামে রিং বাঁধ নির্মাণ করে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি টাকা লোপাট করা হয় সরকারি কোষাগার থেকে। স্থানীয়দের মত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করলে প্রতিবছর সরকারি অর্থ অপচয় হতো না। যেহেতু পাশেই বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে স্লুইচগেট। সচল গেটটিকে প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার না করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮৮ সালের বন্যায় ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওই বাঁধের ১২০০ মিটার রিং বাঁধ নির্মাণ করে আসছেন।

স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইচগেট সংলগ্ন রাউতারা-নিমাইচড়া বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙা অংশ সংস্কার করা হয়। এর সাথে যুক্ত রয়েছে অসাধু ঠিকাদার চক্র। যারা বাঁধ অঞ্চল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে তৈরি করে বাঁধ। ফলে বাঁধ অঞ্চলে সৃষ্টি হয় গভীর খাদ। তাতে করে বাঁধ ও স্লুইচগেটটিও এখন হুমকির সম্মুখীন। এই বাঁধটি কেটে দেওয়া বা ভেঙে গেলে সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার বেশকিছু অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। এই অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী ভাবে বাঁধ নিয়ন্ত্রণের দাবি এ অঞ্চলের চাষীদের। বর্ষা মৌসুমে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারী স্লুইচগেট এলাকা থেকে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে ধ্বংস করছে বড়াল নদীতে ডিম ছাড়তে আসা মা মাছ। এতে করে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে দেশীয় প্রজাতির মাছের। মাছ নিধন শেষ হলে এই অসাধু চক্রই কেটে দেয় কোটি টাকার এই বাঁধ। তাতে করে হঠাৎই প্লাাবিত হয়ে যায় জেলার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ এবং পাবনার ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলার নি¤œাঞ্চাল। গত সোমবার গভীর রাতে ও মঙ্গলবার সকালে দুই দফায় দুই স্থানে বাঁধটি কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার ৬টি উপজেলার বিস্তৃর্ণ গোচারণ ভূমি ও বাথান এলাকা বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এ দুই জেলার ৬ উপজেলার গো-খামার মালিকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা গ্রামের মোবারক হোসেন, চরাচিথুলিয়া গ্রামের আলহক ফকির, রাউতারা গ্রামের ফরমান শেখ, বাচ্চু সরকার ও রোশনাই জানান, সোমবার রাতে কে বা কারা বাঁধের পশ্চিম অংশে ও মঙ্গলবার সকালে মৎস্য শিকারিরা বাঁধের মাঝ বরাবর কেটে দেয়। মূহুর্তে ১২শ’ মিটার বাঁধের অধিকাংশ এলাকা পানির চাপে ভেঙে যায়। জমির সব ফসল আগেই উঠে যাওয়ায় ফসলের কোন ক্ষতি না হলেও হঠাৎই বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন গো-খামার মালিকরা। তারা তরিঘরি করে বাথান এলাকা থেকে গবাদি পশু সরিয়ে নিয়ে বাড়ির উচু স্থানে রাখছে। অপর দিকে গো-চারণ ভূমি ডুবে যাওয়ায় কাঁচা ঘাসের অভাবে খামারের অধিকাংশ গরুর দুধ উৎপাদন কমে গেছে। এতে খামারিরা চরম লোকশানের মুখে পড়েছেন। তারা আরো বলেন, বাঁধ এলাকার মৎস্য শিকারি ও শ্যালো নৌকা মালিকরা অধিক মুনাফার লোভে বাঁধটি কেটে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে পোতাজিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রেশমবাড়ি গ্রামের গো-খামার মালিক মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী বলেন, বাঁধটি রক্ষায় গত ২ সপ্তাহ ধরে ২ জন চৌকিদারকে পাহাড়ার দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপরেও দুর্বৃত্তরা চৌকিদারের নজর এরিয়ে বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এ বছর আগেই ফসল উঠে যাওয়ায় ফসলের কোন ক্ষতি হয়নি। তবে গো-খামারিরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মঞ্জু আলম সরকার বলেন, জমি থেকে ফসল আগেই উঠে গেছে। এতে ফসলের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি। তবে গো-খামারীদের কিছুটা ক্ষতি হবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার ইরি-বোরো ফসল রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২শ’ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ফলে বন্যা থেকে এ বছর ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বাঁধটি কেটে দেয়ায় ফসলের কোন ক্ষতি না হলেও বাঁধ অভ্যান্তরে পানি প্রবেশ করায় গো-খামারীদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আগামীতে যাতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী বছর এখানে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

 

"