টুঙ্গিপাড়া খাদ্যগুদাম বেহাল

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার খাদ্য গুদাম ভবনগুলো বেহাল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার বিহীন ভবনেই চলছে খাদ্য গুদামের সবধরনের কার্যক্রম। যে কোন মুহূর্তে ছাদ ধ্বসে পড়তে পারে। এতে করে শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দাবি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, ১নং গুদামের প্রধান ফটকই ভাঙ্গা। ভিতরে ধান ও চালের বস্তা সাজানো রয়েছে। কিন্তু ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে খসে পড়েছে পলেস্তরা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্কে কাজ করছেন শ্রমিকরা। ভবনের বিভিন্ন অংশে রয়েছে ফাটল। এছাড়া একটু বৃষ্টি হলেই ভবনের ভিতরে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। এতে করে ধান চাল নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া বাকি ৩টি গুদামেরও অবস্থা বেহাল।

উপজেলা খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০-৮১ সালে প্রায় এক একর ১৮ শতাংশ জায়গার উপর নির্মিত হয় ৪টি গুদাম। যার ধারন ক্ষমতা ২০০০ মেট্রিক টন। এটি বাস্তবায়ন করে গৃহায়ন ও গনপূর্ত অধিদপ্তর। আর সর্বশেষ ভবনটি মেরামত করা হয় ২০১২-১৩ সালে। তারপর থেকেই ভবনগুলোর কোনো সংস্কারই হয়নি। এ গুদামে বছরে প্রায় ৩৫ হাজার টন চাল ও ৭৫০ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হয়।

খাদ্য গুদামে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ ও কক্ষের দেয়াল বেয়ে পানি পড়ে। গুদামটির প্রধান ফটক ভাঙ্গা ও নড়বড়ে হওয়ায় ঝুকিপূর্নভাবেই কাজ করতে হয়। কিছু দিন আগেই ছাদের কিছু অংশ খসে পড়ে এক শ্রমিকের উপর। তাই নিরাপত্তা হীনতায় ভোগেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমরাজ হোসেন কুদ্দুস প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, প্রত্যেকটি গুদামের পিলার ভেঙ্গে ভিতরের রড বের হয়ে গেছে। এছাড়া বৃষ্টিতে অনেক ধান চাল নষ্ট হয়ে যায়। আমরা ভবনগুলোর ছবিসহ উর্র্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানালেও কোন কাজ হয়নি। শ্রমিকরা সর্বদা আতঙ্কে কাজ করে। তাই দ্রুত এ ভবনগুলো ভেঙ্গে যদি নতুন ভবন না করা হয় তাহলে যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া খাদ্য গুদামের সামনে ১০ শতাংশ জায়গার উপর একটি নতুন গুদাম করার দাবি জানান তিনি।

 

"