ভূরুঙ্গামারীতে আটক ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটে বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিলামে বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিজিবির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। করিডর ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থা চলছে বলে সংশিল্টদের মন্তব্য।

স্থানীয়বাসিন্দা ও গরু ব্যবসায়িদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করিডোর ব্যবস্থা না থাকার পরেও প্রতিদিন উপজেলার ধলডাঙ্গা, শালঝোড়, উত্তর ধলডাঙ্গা (নতুন ক্যাম্প) পাথরডুবি, ময়দান, দিয়াডাঙ্গা, ভাওয়ালকুড়ি, শিংঝাড় ও বাগভান্ডার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসছে। পাচারকালে সীমান্তে খুব কমই বিজিবি হাতে এসব গুরু আটক হয়। তবে মাঝে মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি থেকে কিছু ভারতীয় গরু আটক করে তারা।

অপরদিকে রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই ভারতীয় গরু আটক করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আটক গরু বিজিবির নিকট হস্তান্তর করে। পুলিশ ও বিজিবি ছাড়াও কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রত্যেক হাটবারে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গরু আটক করতে দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পে ৭টি বড় গরু ৫ লাখ টাকা সিজার মূল্য নির্ধারণ করে নিলামে তোলা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। গরুগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আ. রউফ মোল্লা ২ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকায় ক্রয় করেন। এদিকে দিয়াডাঙ্গা ও ময়দান বিজিবি ক্যাম্পে ১৮টি গরু ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা সিজার মূল্য নির্ধারণ করে নিলামে তোলা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ১১ লাখ টাকা। যা দুই ব্যক্তির নিকট মাত্র ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া ২৯ জুন ধলডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পে ১৭টি বাছুর নিলামে বিক্রি করা হয়। যার সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মামুন ২ লাখ ২০ হাজার টাকায় গরুগুলো নিলামে ক্রয় করেন। পরে ক্যাম্পের রাস্তাতেই স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীর নিকট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।

এদিকে ভাওয়ালকুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে ২৮ জুন ১৬টি গরু নিলামে বিক্রি করা হয়। সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ টাকা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রোকন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫’শ টাকায় নিলামে গরুগুলো ক্রয় করেন। পরক্ষণেই গরুগুলো ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় গরু ব্যবসায়ী মকবুলের নিকট বিক্রি করেন। বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পে ২৬ জুন ৩টি গরুর নিলাম দেয়া হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গরুগুলোর সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যা জাহাঙ্গীর মন্ডল ভ্যাট সহ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেয়। পরে নিলামস্থলের কাছেই গরুগুলো ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকায় স্থানীয় এক গরু ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করেন। একই দিন দিয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্প ৫টি বাছুর নিলামে বিক্রি করে। যার সিজার মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। পাথরডুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আঃ করিম গরুগুলো ভ্যাট সহ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকায় নিলামে কিনে নেন। নিলাম স্থলের কাছেই স্থানীয় এক গরু ব্যবসায়ীর নিকট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

অপরদিকে নিলাম আয়োজনকারী প্যান্ট হাউজ, রংপুর নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির অভিযোগ, কোন রকম প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গোপনে নিলাম কার্য সম্পাদন করে প্রতিষ্ঠানটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতিকালে শাহ আলম কাস্টমস কর্মকর্তা নিলাম কার্যক্রমে আসার পর থেকে কিছু অসাধু বিজিবি সদস্যের যোগসাজসে সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত গরু ব্যবসায়ীরা নিলামের অংশ গ্রহণ করতে পারছে না। অভিযোগ রয়েছে কিছু অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিজিবির সদস্য গরু প্রতি টাকা নেন।

জানতে চাইলে কাস্টমস কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাইকিং বিজিবি ক্যাম্পের আশে পাশে করা হয়। এতে কেউ যদি নিলামে অংশ গ্রহন না করে তা হলে তো আমাদের করা কিছু নাই। এই কর্মকর্তঅ আরো বলেন, অধিকাংশ গরু নিলাম সীমান্তবর্তী বিজিবি ক্যাম্পে হওয়ায় নিরাপত্তার অভাবে অনেকেই নিলামে অংশ গ্রহণ করেন না। এতে বাড়তি সুবিধা ভোগ করছে সিন্ডিকেটকারীরা।

 

"