ন্যায্যমূল্য নিয়েও শঙ্কায় কৃষকরা

নওগাঁয় কমছে সোনালি আঁশের আবাদ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নওগাঁ প্রতিনিধি

কৃষিনির্ভর নওগাঁয় পাট চাষ ছেড়ে সবজির দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা। প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। উৎপাদন খরচের তুলনায় পাটের মূল্য কম থাকায় এই অবস্থা বাড়ছে। কৃষকরা বলছেন, পাটের উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি। সেই তুলনায় বাজারে পাটের মূল্য কম। সেই সঙ্গে জাগ (পচানো) দেওয়ার জায়গা নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে পাটের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় পাটের আবাদ করা হয়েছে ৬ হাজর ১৫০ হেক্টর। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল ও-৪, ৭২, ৯৮, ৯৭ এবং কিছু দেশী, মেছতা ও ভারতীয় জাতের পাট। ১ বেল সমান ৫ মণ হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ২৩৫ বেল পাট। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৩০ হেক্টর এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছিল।

উৎপাদনে খরচ ও পরিশ্রম বেশি হওয়া সঙ্গে জাগ দেওয়ার জায়গার জলাধারের অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলে প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। এ বছর আগাম বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় ফলন যেমন কম হয়েছে, পাটের মানও হতাশাজনক। খরচের তুলনায় দামে তেমন পোশায় না। এতে লোকসানের দুশ্চিন্তা ভর করে চাষীদের মনে।

রাণীনগর উপজেলার কৃষকরা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘায় পাটের আবাদ করতে ৬০০ টাকা হাল খরচ, বীজ ২০০; সার, ওষধ, নীড়ানি, সেচ ৪ হাজার,; শ্রমিকের খাবার ২ হাজার, কাটা ও ধোয়া ৮ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৪-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। বিঘা প্রতি পাট উৎপাদন হয়ে থাকে ১০-১৪ মণ। কিন্তু দাম তুলনা মূলক কম। তাই পুশিয়ে ওঠে না।

আত্রাই উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক আরিফুর পাটের গত বছর পাট চাষ করলেও এ বছর সেই জমিতে এখন পটল করেছেন। নাজিরপুর গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম গতবছর দুই জমিতে পাট চাষ করলেও এ বছর ১ বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছেন। তারা বলেন, এক দিকে পাটের দাম না পাওয়া, অপরদিকে পাট জাগ দেয়ার জায়গা এবং পানি না থাকায় বিপাকে পড়তে হয়। তাই পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কমছে। অনেকে জ্বালানির কাজে পাট কাঠী ব্যবহার করতে স্বল্প পরিমাণ পাটের আবাদ করছে।

নওগাঁর বিশিষ্ট কলামিস্ট মুক্তিযোদ্ধা এবিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়। কিন্তু সেই সোনালী আঁশের আবাদ কমে যাচ্ছে। পাট পচনশীল ও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। এছাড়া পাটের পাতাকে শাক হিসেবেও খাওয়া হয়। পলেথিনের ব্যবহারে দিন দিন পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে। অপরদিকে পাটের জিনিসপত্র পরিবেশ বান্ধব। তিনি বলেন, পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার এবং প্রচারণা বাড়াতে হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) আ. জা. মু. আহসান শহীদ সরকার, শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত এ জেলা। এক সময় প্রচুর পাটের আবাদ করা হতো। বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রতি বছর কমছে পাটের আবাদ। পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষকরা সবজির আবাদের দিকে ঝুঁকছে। আঁশ ছাড়ানোর (পঁচানো) সময় পানি না পাওয়া পাট নিয়ে বিপাকে পড়তে কৃষকদের। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে এবং স্বল্প পানিতে আবাদে উৎসাহিত করার ফলে পাটের আবাদ ছেড়ে কৃষকদের এখন সবজি চাষের দিকে আগ্রহ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া আউশ ধান চাষেও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

"