নোয়াখালী রেজিস্ট্রি অফিস

রেকর্ড রুমেই বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে ৪ লাখ নথি

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

নোয়াখালী জেলা রেকর্ড রুমের ২ লাখ বালাম (জনসাধারণের নামের তালিকা), ১ লাখ ইনডেক্স ও ১ লাখ দলিলসহ চার লাখ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি-পত্র নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি, শ্যাঁতশ্যাঁতে পরিবেশ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় মাইজদী শহর জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষের আমানতের এ রেকর্ডপত্র বিনষ্ট হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ আছে, জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশের পরও নষ্ট নথি পরিদর্শেন যাননি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

সরজমিনে দেখা যায়, রেকর্ড রুমের হাজার হাজার কাগজপত্র পানিতে ভিজে নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় কিছু কিছু কর্মচারী র‌্যাকে থাকা শুকনো রেকর্ডপত্রও পানিতে ফেলে দিয়ে নষ্ট করেছেন বলেও স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেকর্ড রুমের এক কর্মচারী জানান, নোয়াখালী রেকর্ড রুমে গত কয়েকদিনে অন্তত ২ লাখ বালাম, ১ লাখ ইনডেক্স, ১ লাখ দলিলসহ মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট হয়ে গেছে।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু ইউছুফ জানান, রেকর্ড রুমের কাগজপত্র, বালাম ও সরকারি রেকর্ড-পত্র নষ্ট হয়েছে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে রেকর্ড রুমে পাঠান। ম্যাজিস্ট্রেটের রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা পেয়ে জেলা প্রশাসক জেলা রেজিস্টারকে ডেকে নিয়ে এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু জেলা রেজিস্টার আশরাফুল ইসলাম রেকর্ড রুম পরিদর্শনে যাননি বলে স্থানীয় সূত্র জানা গেছে।

রেকর্ড রুমের রেকর্ড কিপার নারায়ণ চন্দ্র দাস বলেন, তিনি নবাগত, তাই নষ্ট রেকর্ড পত্রের পরিমাণ তথ্য তার জানা নেই। বর্ষা মৌসুমের আগে থেকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের হেডক্লার্ক সিরাজুদ্দৌলাকে বিষয়টি স্থানীয়রা একাধিকবার অবগত করেন। জেলা রেজিস্ট্রারের জরুরি কাগজপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিতে গুদাম ভাড়া নেওয়ার জন্য একাধিকবার বলা হলেও কেউ কর্ণপাত করেনি।

দলিল লেখক সমিতি সভাপতি সাইফ উদ্দিন বাবুল জানান, পানি ওঠার কারণে বালাম ও কপিগুলো ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। জেলা রেজিস্ট্রার মহোদয়ের বাহিরে আমরা কোনো মন্তব্য করতে পারব না।

বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরার অ্যাসোসিয়েশন সদর শাখার সেক্রেটারি কাজী জানিয়াত হোসেন মেহেল জানান, পুরাতন বালাম ইনডেক্স গত বছর ও বর্তমান বছরের দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, টেবিল, চেয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। বেহাল দশায় কয়েকশ কর্মচারী কাজ করতে পারছেন না।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি ও আওয়ামী আইনজীবী সমিতির নেতা অ্যাড. আবদুল মান্নান জানান, রেকর্ড-পত্র নষ্ট হলে এক শ্রেণির জালিয়াত চক্র অফিসের যোগসাজশে জাল দলিল ও রেকর্ড-পত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষকে সর্বস্বান্ত করে ফেলবে। যার ফলে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং মামলা মোকদ্দমা বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল দুপুুরে স্থানীয় ভাবে এবং সন্ধ্যায় প্রতিদিনের সংবাদ অফিসে থেকে জেলা রেজিস্টার আশরাফুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে সাড়া পাওয়া যায় নি।

 

"