একমাস ধরে বন্ধ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

সাহারুল হক সাচ্চু, উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ)

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে চকবরু ভেংড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজ। নতুন ভবনের জন্য জায়গা পুনঃনির্ধারণের গ্রামবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে এ কাজ স্থগিত করে উপজেলা প্রশাসন।

চকবরু-ভেংড়ী গ্রামবাসির দাবি, ভবন নির্মাণ শুরু করা জায়গাটি স্থানীয়দের খেলার মাঠ। এর পরিবর্তে তার পাশেই বিদ্যালয়ের নিজস্ব আরেকটি জায়গায় ভবন নির্মাণে আবেদন জানিয়েছেন।

তবে স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জায়গা পুনঃনির্ধারণ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের কোন নথি এখনো প্রকৌশল বিভাগকে দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়।

উল্লাপাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) সূত্রে, চলতি বছরের প্রথম দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চকবরু-ভেংড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্বাচিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ২৮ মার্চ কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ জন্য বরাদ্ধ ধরা হয়েছে ৬৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এলজিইডির অধীনে বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের সামনের নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদার।

এদিকে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু স্থান একালাবাসীর একমাত্র খেলার মাঠ ও খোলা জায়গা বলে সামাজিক ও ধর্মিয় অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এ জায়গার পরিমান ২৫ শতক।

এলাকাবাসি জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকে নতুন চিহ্নিত জায়গায় ভবনটি নির্মানের বিষয়ে একমত হয়েছে। এ জন্য শুরুর দিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাশের আরেকটি জায়গায় ভবন নির্মাণের মৌখিক আবেদন জানান। পরে গ্রামবাসীদের পক্ষে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ইয়াছিন তালুকদার লিখিত আবেদন উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রেরণ করেছেন।

জানতে চাইলে সভাপতি ইয়াছিন তালুকদার জানান, তাদের চিহ্নিত নতুন জায়গায় ভবনটি নির্মান করা হলে খেলার মাঠটি রক্ষা পাবে। দুটোই বিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গা এবং পুরাতন ভবন থেকে একই দূরত্বে জায়গা দুটির অবস্থান।

গ্রামবাসীর আবেদন পাওয়া কথা স্বীকার করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমজি মাহমুদ ইজদানি জানান, গ্রামবাসীদের পক্ষে পাওয়া আবেদন ও রেজুলেশন কপি তার বিভাগ থেকে স্থানীয় এলজিইডি অফিসসহ অনুমোদনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়েছে।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গত ১১ জুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নতুন ভবনটি নির্মাণের জায়গা পুনঃনির্ধারনে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে শুধু মাত্র গ্রামবাসীদের আবেদন ও একটি রেজুলেশন কপি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কমিটির কোন নথি এখনো দেওয়া হয়নি।

উপজেলা ইউএনও মো. আরিফুজ্জামান জানান, বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণে জায়গা পুনঃনির্ধারণ বিষয় অনুমোদন হয়ে আসলে প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

"