মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ

নির্মাণ সামগ্রীর দখলে স্কুল মাঠ, শ্রেণিকক্ষে শ্রমিক

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর

মেহেরপুরে ক্রীড়ানৈপুণ্যে অগ্রবর্তী একটি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠ ৫ মাস ধরে আটকা পড়ে আছে নির্মাণ সামগ্রীতে। এমনটি বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে থাকছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। ফলে স্কুলের খেলাধুলায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা অনুশীলন করতে পারছে না। নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। এই অবস্থা আরো ছয় মাস থাকবে বলে মনে করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে স্কুলে নতুন চারতলা বিশিষ্ট ভবন একটি নির্মাণ হচ্ছে। কুষ্টিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনোয়ার ট্রেডার্স এই নির্মাণ করা করছে। বিধান অনুযায়ি বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী না রেখে ঠিকাদারের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিকল্প স্থান ব্যবহার কথা। এছাড়া নির্মাণ শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থাও তারা করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার কিছুই রক্ষা করা হয়নি।

১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মেহেরপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ। তারপর থেকে এ পর্যন্ত জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে খেলাধুলায় দেড় শতাধিক পুরস্কার ঘরে এনেছে তারা। এসএসসি পরিক্ষার ফলাফলে এ পর্যন্ত ৮ বার শতভাগ পাশের রেকর্ড আছে তাদের। কিন্তু বিদ্যালয়ের ভবন নির্মানের ফলে খেলার মাঠের পুরো অংশ জুড়ে রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এ দিকে স্কুলের ক্লাসরুমে থাকতে দেওয়া হয়েছে নির্মাণ শ্রমিকদের। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্মাণ কাজ শেষ হতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে স্কুলের খেলাধূলায় পারদর্শী শিক্ষার্থী ছাত্রীদের তাদের অনুশীলনের বিকল্প ব্যবস্থা নেই।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান, তিনশতাধিক ছাত্রী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। তাদের কোলাহল ও হইহুল্লোড়ে মুখোর থাকত বিদ্যালয়টির খেলার মাঠ। গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিদ্যালয়টির সেই মাঠটি দখল করে রেখেছে সংস্কার কাজের নির্মাণ সামগ্রী। শুধু মাঠেই নয়, বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষ দখল করে নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করেছেন নির্মাণ কাজের ঠিকাদার।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠ জুড়ে নির্মাণ সামগ্রি ইট, কাঠ, খোয়া, লোহা পড়ে রয়েছে। ছড়িয়ে থাকা এই সামগ্রী অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রায়স ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কা থেকেই যায়।

বেশ কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করেন, খেলাধূলার অনুশীলন দুরে থাক, ক্লাসরুমে যাতায়াতেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দেখে শুনে না চললে পায়ে পেরেক ফোটার ভয় তাড়া করে।

বিদ্যালয়টির ১০ম শ্রেণির ছাত্রী বৈশাখী, বৃষ্টি, সামিয়া, সম্পা অভিন্ন সুরে জানান, মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখায় খেলাধুলা ও শরীর চর্চা হচ্ছে না। অনুশীলনের অভাবে আগামীতে তারা খেলাধূলার কৃতিত্ব ধরে রাখতে না পারার আশঙ্কা হচ্ছে।

জানতে চেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সত্তাধিকারীর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. আক্তারুজ্জামান জানান, ভবন নির্মাণের জন্য শ্রেণি কক্ষ ব্যবহার তো দূরের কথা. বিদ্যালয় মাঠেও নির্মাণ সামগ্রী রাখার নিয়ম নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজের কারণে মেনে নিতে হচ্ছে।

 

"