সখীপুরে স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত ২ লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

গত ১১ বছর ধরে কাগজে কলমে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নে দুটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র থাকলেও বাস্তবে নেই। ফলে দুই ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ গত ১১ বছর ধরে স্বাস্ব্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থাপনাবিহীন ওই দুই হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ থাকলেও তারা প্রেষণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ২০০৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার যাদবপুর ও হাতীবান্ধা ইউনিয়নের প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়কের পদ সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ওই পদের বিপরীতে নিয়োগও দেয়। তবে ওই পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্তরা বাস্তবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের স্থাপনা না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন।

যাদবপুর ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাগজে-কলমে চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার) হিসেবে সুশান্ত কুমার সাহা থাকলেও বর্তমানে তিনি প্রেষণে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরি করছেন। উপ-সহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) মোস্তফা কামাল কর্মরত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে।

হাতীবান্ধা ইউনিয়নে চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে শামীমা আহমেদ এবং উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা রাশিদা আক্তার যোগ দিলেও বর্তমানে তারা সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, আমি চার বছর ধরে স্থাপনাবিহীন হাসপাতালে চাকরি করছি। যে হাসপাতালে কাজ করার জন্য নিয়োগ পেয়েছি, বাস্তবে ওই ইউনিয়নের কোথাও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিষয়ে যাদবপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও হাতীবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, তাদের ইউনিয়নে কাগজে-কলমে একটি করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। অথচ তাদের তা জানা নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বেলায়েত হোসেন বলেন, আমি প্রায় বছর খানেক ধরে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিয়েছি। আমার কার্যালয়ে প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বিষয়ে যাবতীয় তথ্যাবলী টাঙিয়ে রেখেছি। ওই দুই চেয়ারম্যান মহোদয় এ সম্পর্কে না জানলে আমার কী করার আছে। তবে আমি ওই দুই চেয়ারম্যানকে কথা দিতে পারি প্রতিটি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিদাতা পাওয়া গেলে হাসপাতালের ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

"