আবাদ নেই মুড়ি, আউশ ও আমনের

হাজীগঞ্জে অনাবাদি ১০ হাজার হেক্টর জমি

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

আষাঢ়ে অনাবৃষ্টির কারণে চলিত মৌসুমে মুড়ি, আউশ ও আমন ধানের আবাদ নেই হাজীগঞ্জে। এতে করে উপজেলার প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদী অবস্থায় পড়ে আছে। এ সময়ে মাঠ, ঘাট পানিতে চারিদিক থৈ থৈ করার কথা থাকলেও এলাকার মাঠগুলি এখনও রয়েছে শুকনো। পানির অভাবে কৃষক মাঠে হাল চাষ করতে না পেরে মাঠগুলি এখন শুধু গরুর ঘাস খাওয়ার উপযোগী হয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে কৃষক ও উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। কৃষকরা বলছেন, এ বিষয়ে কৃষি অফিসের পরামর্শ পায়নি এবং ধানের বীজ কারা, কোথায় বিক্রি করছে, তাও তারা জানে না। অপর দিকে কৃষি অফিস বলছে এ অঞ্চলে মুড়ি, আউশ ও আমন ধান চাষ তেমন একটা হয় না। যতটুকু হয়, এবার অনাবৃষ্টির কারণে তা হচ্ছে না।

জৈষ্ঠ্যের শেষ দিকে এবং আষাঢ়ের প্রথমে বৃষ্টি হলে মুড়ি (বোরো ধানের মুড়ি থেকে জন্মানো গাছের ধান) ও আউশ ধানের চাষ করা হয়। কিন্তু এ বছর অনাবৃষ্টির ফলে মাঠে পানি না থাকায় মুড়ি ও আউশের চাষ হয়নি। এখন আমন চাষের ভরা মৌসুম, কিন্তু আষাঢ়ের শেষ দিকেও কাক্সিক্ষত বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠে পানি নেই। ফলে কৃষক বীজতলা তৈরি করতে পারেনি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মুড়ি, আউশ ও আমন ধান চাষে, প্রকৃতির বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকেন চাষিরা। কিন্তু আষাঢ়ে শেষের দিকেও কাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের মাঠ পানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে। ফলে মুড়ি ও আউশ ধানের সময় পার হয়ে গেছে। এখন আমনের চারা রোপনের উপযুক্ত সময় হলেও, মাঠে পানি নেই। এতে করে মাঠের পর মাঠ জমি অনাবাদি পড়ে আছে।

এদিকে সমকালীন শষ্য উৎপাদনে কৃষকদের ব্লক ভিত্তিক পরামর্শ দেয় কৃষি বিভাগ। প্রতিটি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। ১টি ওয়ার্ডে ৩টি ব্লক এবং প্রতিটি ব্লকে ১২টি গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে ২০-২৫ জন সদস্য (কৃষক/চাষী) রয়েছেন। একজন ব্লক সুপারভাইজার (মাঠ কর্মকর্তা) প্রতিদিন ২ টি গ্রুপ নিয়ে কাজ করবেন। এই গ্রুপের সদস্যগণ অন্য কৃষকদের গ্রুপের আলোচনা বিষয়ে অবহিত করবেন। কিন্তু বোরো মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে ব্লক সুপারভাইজারদের কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি বলে কৃষকদের অভিযোগ।

বাকিলা ইউনিয়নের শ্রীপুর মাঠের (খাইল্লার বিল) স্কীম ম্যানেজার লিটন মজুমদার ও একই মাঠের কৃষক শামছল আলম খাঁন জানান, আউশ-আমন চাষে আমরা কোন ধরনের পরামর্শ পাইনা। তাছাড়া এ ধানের বীজ কোথায় পাওয়া যায়, তা আমরা জানি না। তারা বলেন, শুধুমাত্র ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষি অফিসাররা আমাদেরকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

সদর ইউনিয়নের কাজিরগাঁও বিলে জমি রয়েছে এমন একজন ভূমির মালিক ও হাজীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন ফারুক বলেন, জমিগুলো অনাবাদী অবস্থায় পড়ে আছে। সঠিক পরামর্শ পেলে জমিগুলোকে কাজে লাগানো যেতে বলে তিনি জানান। উপজেলার বাকিলা বাজারের সার ও বীজ বিক্রেতা সৈয়দ আহম্মদ হাওলাদার জানান, আউশ ও আমন ধান বীজের চাহিদা নেই।

জানতে চাইলে উপজেলা বীজ বিপনন বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক খায়রুল বাসার জানান, পর্যাপ্ত পরিমানে আউশ-আমনের বীজ রয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত এক কেজি বীজও কারো কাছে (ডিলার বা কৃষক) বিক্রি করতে পারিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষকের চাহিদা না থাকা, আমাদের কাছ থেকে ডিলাররা বীজ নিচ্ছেন না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মনি সূত্রধর প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, উপজেলায় আউশ-আমনের চাষ তেমন একটা হয় না এবং কৃষকরা আগ্রহী নন। তাছাড়া এ বছর অনাবৃষ্টির কারনে, মাঠে পানি থাকায় কৃষক বীজতলা তৈরি করতে পারেন নি। যার ফলে জমিগুলো অনাবাদী অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন কারনে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর কৃষি জমি কমেছে।

 

"