মির্জাগঞ্জ প্রাণিসম্পদ অফিস

জনবল সংকটে বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ

১১টি পদের মধ্যে ভেটেরিনারি সার্জনসহ ৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে প্রয়োজনীয় উপকরণ, ওষুধ, চিকিৎসকসহ জনবল সংকটের কারণে গৃহপালিত প্রাণীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার প্রায় ৩২ হাজার পরিবারের হাঁস-মোরগ, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া, কবুতর-কোয়েল খামারসহ অন্যান্য গৃহপালিত প্রাণী।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের নতুন ভবন নির্মিত হলেও একমাত্র জনবল ও ওষুধ সংকটের কারণে বিঘিœত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এদিকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে নামে মাত্র প্রশিক্ষন নিয়ে কিছু হাতুড়ে ডাক্তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে চিকিৎসার দেয়ায় নামে অপচিকিৎসা দিচ্ছেন। ফলে অনেক পরিবারকে হারাতে হচ্ছে মূল্যবান প্রণীটি।

প্রাণীসম্পদ অফিসের দেওয়া তথ্যে মতে, ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মির্জাগঞ্জ উপজেলায় গরুর তালিকাভুক্ত খামার রয়েছে ১২টি। এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে গড়ে উঠা একাধিক খামার তো রয়েছেই। এছাড়াও ছাগলের খামার ২২টি, হাঁসের খামার ৭৫টি ও মোরগের খামার (সোনালী) রয়েছে ২০টি ও বয়লার খামার ৫৫টি এবং গাভী মোটাতাজা করন খামার রয়েছে ২৫০টি। মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মোট গরু রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার ৫৫৮টি, মহিষ ১ হাজার ৪৮০টি, ছাগল ৬ হাজার ২৭৮টি, ভেড়া অর্ধশত, হাঁস ২ লাখা ২০ হাজার ৯৫৯টি, মোরগ ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭৪০টি, কবুতর ৮ হাজার ৯২৬ টিসহ অন্যান্য গৃহপালিত পশু-পাখি রয়েছে আরো লক্ষাধিক। সরকারি হিসেবে গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা মোট ৮ লাখ ১২ হাজার হলেও এর চেয়ে অনেক বেশি প্রাণী রয়েছে এ উপজেলায়। কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরন, জনবল, ওষুধ ও ডাক্তার সংকটে পিছিয়ে পড়েছে উপজেলার ডেইরি ও পোল্ট্রি খামারিসহ উৎপাদনকারীরা।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক খামারি জানান, তারা কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের গরু উৎপাদন করতে আগ্রহী। কিন্তু এখানে কোনো ভেটেরিনারি সার্জন না থাকায় এ সেবা ও লক্ষ্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। রামপুর ও মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের খামারিরা বলেন, এ ইউনিয়ন থেকে যাতায়াত ব্যবস্থা কঠিন। ফলে পশু-পাখি নিয়ে হাসপাতালে আসা-যাওয়া কষ্টকর ও ব্যয়বহুল। সদরে এসে ডাক্তার নিয়ে যাওয়া সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং বেশী অর্থ খরচ হয়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় ডাক্তার নিয়ে বাড়ি পৌঁছার আগেই পশু মারা যায়। এজন্য গ্রাম্যে চিকিৎসকের কাছে জেতে হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময়ে দেখা যায় তাদের চিকিৎসার কারনে অনেক গরু মারা যায়। এ জন্য তারা প্রত্যেক ইউনিয়নে একজন করে পশু চিকিৎসক ও পরামর্শক নিয়োগের জন্যে সরকারের কাছে দাবি জানান খামারীরা। উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাগঞ্জ প্রাণীসম্পদ অফিসে ১১টি পদের মধ্যে ভেটেরিনারি সার্জনসহ ৬াট পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাসহ ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়েই অফিসের কার্যক্রম।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা জানান, এখানে অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় মির্জাগঞ্জের বিপুল জনগোষ্ঠীর প্রাণীসম্পদ চিকিৎসায় তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় ওষুধ বরাদ্দ কম ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে এখানে। বছরে একবার মাত্র এখানে ওষুধ সরবরাহ করা হয়। তা দিয়ে বছর পার করতে হয় আমাদের। ফিল্ড অফিসার না থাকায় ৬টি ইউনিয়নের বিশাল এলাকায় গিয়ে তাদের পশুর চিকিৎসা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

 

"