মালিক সমিতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

খুলনা-বরিশাল রুটে বাস বন্ধ ১৯ দিন

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

মামুন আহম্মেদ, বাগেরহাট

দুইটি মালিক সমিতির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে খুলনা-বরিশাল রুটে চলাচল করা অন্তত ৫০টি যাত্রীবাহী পরিবহন ১৯ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বরিশাল ও ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে এই বাস বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাগেরহাটের ওপর দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করা হাজার হাজার যাত্রী।

এদিকে গতকাল শনিবার দুপুরে বাগেরহাট আন্তঃজেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে বাগেরহাট ও খুলনার পাঁচটি বাস মালিক সমিতি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে প্রশাসনিক উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়। তা না হলে দক্ষিণাঞ্চলের সাতটি বাস মালিক সমিতি খুলনা-বরিশাল সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। সভা শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান তারা।

একটি মালিক সমিতির খামখেয়ালীপনা ও চাঁদাবাজীর কারণে খুলনা-বরিশাল রুটে বাস বন্ধ রয়েছে। তবে বাগেরহাটসহ পাঁচটি মালিক সমিতির করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল ও ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি। তারা পরষ্পরের উপর দোষারোপ করছেন।

খুলনা-বরিশাল এই রুটে প্রতিদিন ৫০টির মতো গাড়ি চলাচল করে থাকে। প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি এবং বরিশালের কয়েক হাজার যাত্রী এই রুটে যাতায়াত করে থাকেন। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের যোগাযোগের জন্য এই রুটটি সবচেয়ে সহজ। খুলনা-বরিশাল রুটের বরিশাল ও ঝালকাঠি পরিবহন মালিক সমিতির দ্বন্দ্বের কারণে যাত্রী পরিবহণ করা ধানসিঁড়ি পরিবহণটি গত ১৯ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে এই রুটে যাতায়াত করা হাজার হাজার যাত্রীকে ভেঙে ভেঙে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বাগেরহাট আন্ত:জেলা পরিবহণ মালিক সমিতির সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকি সাংবাদিকদের বলেন, এই এলাকার যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সমস্যা নিরসনে খুলনা ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন এই নেতা।

রুপসা-বাগেরহাট আন্ত:জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সম্পাদক নকিব নজিবুল হক নজু বলেন, বাস বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। মালিক সমিতির চলমান দ্বন্দ্ব অবিলম্বে নিরসন না করলে আগামী ১৫ দিন পরে আমাদের সাতটি মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সবরুটে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাগেরহাট আন্ত:জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সম্পাদক তালুকদার আব্দুল বাকির সভাপতিত্বে জরুরি সভায় রুপসা-বাগেরহাট আন্ত:জেলা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি নিখিল চন্দ্র মুখার্জী, সম্পাদক নকিব নজিবুল হক নজু; রুপসা-বাগেরহাট আন্ত:জেলা পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল হক লিপন, সম্পাদক মোস্তাক হোসেন; মহিষপুরা-খুলনা পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি শেখ মাসুদুর রহমান, সম্পাদক বিনয় কৃষ্ণ দাস; বাগেরহাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রেজাউর রহমান মন্টুসহ পাঁচটি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সম্পাদক কাওসার হোসেন লিপন বলেন, ঝালকাঠি মালিক সমিতির খামখেয়ালীপনা ও চাঁদাবাজীর কারণে গত ১৯ দিন ধরে খুলনা-বরিশাল রুটে ধানসিঁড়ি পরিবহণের অন্তত ৫০টি বাস বন্ধ রয়েছে। সমস্যা নিরসনে সাতটি বাস মালিক সমিতি সভা করে বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোন উদ্যোগ না নেয়ায় গাড়ী চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

চাঁদাবাজীর অভিযোগ অস্বীকার করে ঝালকাঠি জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির জেষ্ঠ্য সহসভাপতি মাহবুবুল হক দুলাল সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৪ জুন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দুরপাল্লার যাত্রী পরিবহণ করা নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বরিশাল ও পিরোজপুর গাড়ী চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তাই প্রশাসনকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

"