উচ্ছেদে বিলীন প্রায় নেকমরদ বাজার, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নেকমরদ বাজারে দোকানঘরসহ কয়েকটি বাড়িঘর অবৈধভাবে থাকার অভিযোগ উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। এতে কার্যত বিলীন হয়ে পড়েছে নেকমরদ বাজার। লাখ লাখ টাকা গচ্ছা যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহার নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

উপজেলা প্রশাসন বলছে, সরকারে প্রয়োজনে উচ্ছেদ হয়েছে। তবে বাজার ভেঙ্গে আবার ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। দোকানিদের বক্তব্য, ভেঙ্গে যদি দোকানঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে, তাহলে আগে পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কেন এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হলো না। তাহলে ব্যবসায়িরা এতো ক্ষতির শিকার হতো না। তারা জানান, জাকজমকপূর্ণ একটি বাজার থেকে বছরে প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে সরকার, অথচ এবার সেই ব্যবসায়িদের পথে বসিয়ে দেওয়া হলো। এখন দোকান বরাদ্দ দেওয়ার নামে বড় ধরনের বাণিজ্য হতে পারে। এতে আরো পথে বসবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, নেকমরদ বাজারে অবৈধভাবে দখল ছিল ৭ একর ৩৫ শতক জমি আর বাগানবাড়ীতে ছিল ১ একর ৯৩ শতক জমি। নেকমরদ বাজারে প্রায় ২৭৮টি অবৈধ স্থাপনা ছিল আর বাগানবাড়ীতে ১৫০টি বাড়ি ছিল।

এদিকে নেকমরদ বাজারের পাশে সরকারি তালিকাভুক্ত বাগানবাড়ীতে প্রায় ১৫০ জন ভূমিহীন পরিবার বসবাস করতো। চলমান অভিযানে তাদেরও উচ্ছেদ করা হয়েছে, কিন্তু তাদের পূর্ণবাসনের জন্য জায়গা নির্ধারণ না করে। এতে তারা মানবেতর জীপনযাপন করছেন। এছাড়াও স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার করার পরিবেশ হারিয়ে ফেলেছে এবং হতাশায় ভুগছে তারা।

তবে উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে কুমরগঞ্জ নামক এলাকায় ২টি সরকারি পুকুর পাড়ে আপাতত জায়গা দিয়েছে। ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পরিবারগুলোকে সহযোগিতা স্বরূপ ২ বান টিন ও নগদ ছয় হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ চন্দ্র সাহা মুঠোফোনে জানান, উচ্ছেদ অভিযান জুন মাসের ১০ তারিখ থেকে শুরু হয়ে চলমান রয়েছে। অনেক জটিলতা রয়েছে এগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করে জমিগুলো উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নিয়মনুযায়ী বাজারটি এবার সাজানো হবে কোন ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। আমি সর্বাত্বক চেষ্টা করছি নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে কাজগুলো করার।

জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরকারের প্রয়োজনে সরকারী জায়গা দখলে নিতে পারে। তবে জনগণের জন্য সরকার এ কথা মনে রেখে ভূমিহীন পরিবারদের আগে পূর্ণবাসন দিয়ে তারপর তাদের ঘর বাড়ী ভাঙ্গা উচিত ছিল। পাশাপাশি দোকানদেরও আগে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে ব্যবসায়ীরা আজ এত ক্ষতির মধ্যে পড়তো না। তবে তিনি প্রত্যাশা করেন নেকমরদ বাজার নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম সঠিক চিন্তাভাবনা নিয়ে করা হবে যাতে ব্যবসায়ীরা আর কোন ক্ষতির মধ্যে না পড়ে।

 

"