ইউনিয়নের সীমানা নিয়ে আইনি জটিলতা

এক নির্বাচনেই ১৬ বছর পার

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আদিল হোসেন তপু, ভোলা

নিয়মানুযায়ি পাঁচ বছর পর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিধান থাকলেও, এক নির্বাচনেই দেড় দশকের অধিক সময় ধরে একই পদে আছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার ৭নং পশ্চিম চরউমেদ ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ। ভোট কেন্দ্র স্থানান্তরের দাবীতে উচ্চ আদালতে করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ আছে, চেয়ারম্যানের উৎসাহে ওই মামলা করেন তার দলীয় এক ব্যক্তি।

ইউপি সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশের মতো পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নেও নির্বাচন হয়। তৎকালীন সময়ে নিজ দল ক্ষমতায় থাকার সুবাদে অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচন ছাড়া তিনি দেড় দশকেরও অধিক সময় ধরে চেয়ারম্যান হিসাবে পদে আসীন আছেন।

আদালত ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালে ইউনিয়নটির একটি ভোট কেন্দ্র বিচ্ছিন্ন চরকঁচুয়াখালীতে স্থানান্তরের দাবী জানিয়ে জৈনিক সিরাজুল হক নামের এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়ভাবে তিনি চেয়ারম্যানেরই সমর্থক। দায়িত্ব ভোগের জন্য এই মামলাটিও ওই ব্যক্তিকে দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানেই করান বলে জনশ্রুতি আছে। যার কারণে ১৬ বছর যাবৎ ইউনিয়নটিতে বন্ধ রয়েছে নির্বাচন।

সাবেক চেয়ারম্যান হাজ্বী আবু তাইয়েব বলেন, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়েও জনগনের মৌলিক চাহিদা আমাদের আগে দেখতে হবে। একই ব্যক্তি বারবার ক্ষমতার চেয়ারে থাকায় জনগণ তাদের সঠিক সেবা পাচ্ছে না। ক্ষমতার পরিবর্তন না হলে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেনা যার ফলে জনগনও সুফল পায় না। এ অবস্থায় দ্রুত ওই ইউনিয়নে নির্বাচনের জোর দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু ইউসুফ মামলার কথা অস্বীকার করে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ইউনিয়নটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হবে। যার কারণে নির্বাচন বন্ধ রয়েছে। তবে মামলা ব্যাপারে তার ইদ্ধন আছে কিনা, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আমির খসরু গাজী বলেন, এই ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে কয়েক দফা আদেশ দিলেও একটি মামলা থাকায় নিবার্চন করা যাচ্ছে না। তবে ওই মামলা নিষ্পত্তি হলেই খুব শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

 

"