একমাত্র ভবনও পরিত্যক্ত গাছতলায় পাঠদান

নড়াইলের ধোপাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনমাস ধরে গাছতলায় চলছে পাঠদান। পৌর এলাকার চোরখালী গ্রামে অবস্থিত ধোপাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গত এপ্রিলে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

১৯৩২ সালে ২৬ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন এলাকাবাসী। ১৯৯৬ সালে সরকারি বরাদ্দে বিদ্যালয়ে চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন তৈরি হয়। এ ভবনেই চলত পাঠদান ও অফিসের কার্যক্রম। বর্তমানে চোরখালী ও গোফাডাঙ্গা গ্রামের ছেলেমেয়েরা এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ১৪১ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭৪ ও ছাত্রী ৬৭। বিদ্যালয় সূত্র এই তথ্য জানায়।

গত এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ওই বিদ্যালয় ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে ওই ভবনে ক্লাস নিতে নিষেধ করেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার। সেই থেকে ভবন ছেড়ে দিয়ে গাছতলায় চলছে পাঠদান।

শিক্ষকেরা জানান, গত তিন বছর আগে গ্রামবাসীর উদ্যোগে করা হয়েছিল একটি টিনশেড ছোট ঘর। সেখানে হয় পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস। ওই ঝঁকিপূর্ণ ভবনের একটি কক্ষ একটু ভালো মনে হয়। সেখানে হয় প্রাক-প্রাথমিক (শিশু) শ্রেণির ক্লাস। বাকি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস হয় গাছতলায়। ওই ঝঁকিপূর্ণ ভবনেই এখানো চলে অফিসের কার্যক্রম।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয় চত্বরে বড় একটি রেইনট্রি গাছ। সে গাছের নিচে হচ্ছে ক্লাস। একই জায়াগায় গাদাগাদি করে ওই চারটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বেঞ্চে বসেছে। নিচে নরম মাটি। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। খোলা জায়গায়, তাই বেঞ্চ ধুলবালিতে ঠাসা। মাঝেমধ্যে গাছের পাতা ও ছোট ডাল পড়ছে শিক্ষার্থীদের গায়ে। শিক্ষার্থীদের গায়ে লাগছে রোদ। বিদ্যালয়ে খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। শৌচাগার দুটি ব্যবহার অনুপযোগী। আর ওই ঝুঁকি পূর্ণ ভবনের ছাদে ও বিমে ফাটল ধরেছে। খসে পড়েছে পলেস্তরা। বারান্দার খুঁটিগুলোর ইট-খোয়া খসে পড়েছে। যেকোনো সময়ে ভেঙ্গে পড়তে পারে ভবনটি।

শিক্ষক নার্গিস পারভীন ও তন্দ্রা দেবী রায় জানান, বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা দৌঁড়ে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বারান্দায় গাদাগাদি করে আশ্রয় নেয়। কালো মেঘ দেখলেই ঝড়ের ভয়ে ছুটি দেওয়া হয়। সকাল থেকে বর্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে না। এ অবস্থায় খোলা জায়গায় এ পরিবেশে উপকরণ ব্যবহার করা যায় না। বাইরে গরম, এতে মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে উপস্থিতি কমেছে। মনোযোগও নষ্ট হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার প্রতি কোমলমতি শিশুদের নেতিবাচক ধারণাও জন্ম নিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এর বস্তবতা পাওয়া যায়।

প্রধান শিক্ষক নাছরীন আক্তার বলেন, বিভিন্নভাবে চেষ্টা তদবির করছি ভবনের জন্য। কিন্তু আশার নাগাল এখানো পায়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আকবর হোসেন বলেন, বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

 

"