গৌরীপুরে সরকারি গাছ বিক্রি

চুরির অজুহাতে গাছ আত্মসাতের চেষ্টা!

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের অজুহাতে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের সরকারি গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।গত সোমবার বিকালেও নির্মাণাধীন স্টেশন এলাকায় গিয়ে দুটি রেইনন্ট্রি গাছ কাটাতে দেখা যায়। এছাড়া ইতোপূর্বে কাটা ৬টি গাছ ‘চুরি গেছে’ দাবি করে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় পুরাতন কারাগারের পাশে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। এর ঠিকাদারি নিয়েছেন জিএম কনস্ট্রাকশনের সত্তাধিকারী বাপ্পি দে।

গত সোমবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুটি বড় আকারের রেইনিট্র গাছ কাটা হচ্ছে। এর তদারকি করছেন ঠিকদার বাপ্পী দে’র ছোট ভাই। গাছ কাটার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি গাছ কাটার অনুমতি ও টেন্ডারের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সাংবাদিকদের। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের অজুহাতে একাধিক গাছ কাটা হয়েছে।

কাঠুরে স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া ও ইউসব আলী জানান, ঠিকাদারের লোক বাপ্পী দে গাছ কাটতে তাদের এনেছেন।

জানতে চাইলে ঠিকাদার জিএম বাপ্পী দে মুঠোফোনে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, গাছ কাটার লিখিত কোন অনুমতি নেই। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালকের মৌখিক নির্দেশেই ৬টি গাছ কাটা হয়েছে। সোমবার ৩টি গাছ কাটা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এর আগে ৬টি কাটা গাছই চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনার গৌরীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এদিকে থানায় ডায়েরিকৃত চুরি যাওয়া গাছের কিছু অংশের সন্ধান মিলেছে নির্মাণাধীন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশ্ববর্তী করাত কলে। আরো কিছু গাছের সন্ধান মিলেছে পরিত্যাক্ত কারাগারের পাশে। সেগুলোও ঠিকাদারের লোকজন রেখে গেছেন বলেন জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানতে চাইলে করাত কলের মালিক ইজ্জত আলী জানান, ঠিকাদারের লোকজন গাছ কেটে এখানে রেখেছে। আমি গাছ ক্রয় করি নাই, সরকারি গাছ কেনার প্রশ্নই আসে না।

জানতে চাইলে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দিমনি শর্মা জানান, ভবন তৈরি করছে গণপূর্ত বিভাগ, গাছ কাটা, না কাটা সেটা গণপূর্ত বিভাগের ব্যাপার। ভবন নির্মাণের পূর্বে আমরা কিছুই জানি না।

ইউএনও ফারহানা করিম জানান, সরকারি গাছ কাটার পূর্বে যথাযথ নিয়ম মানা উচিত ছিলো।

"