বন্ধ হলো পার্বতীপুরের একমাত্র সিনেমা হল ‘উত্তরা টকিজ’

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

আল মামুন মিলন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)

মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতাসহ নানা অব্যবস্থাপনায় বন্ধ হয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার একমাত্র সিনেমা হল উত্তরা টকিজ। ফলে বড় পর্দার আর কোনো বিনোদন কেন্দ্র থাকল না সংস্কৃতিমনা মানুষের জন্য। এর পেছনে হল মালিকদের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ভালো ছবি প্রদর্শন না হওয়ায় দর্শক কমে যাওয়ার কথাও জানা যায়।

১৯৮৫ সালে পার্বতীপুর পৌর শহরের নতুনবাজারে যৌথ মালিকানায় নির্মিত হয় উত্তরা টকিজ। এক সময় হলটি ছবি প্রদর্শনে জৌলুস ছড়াতো শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। এমনকি পার্শ্ববর্তী বদরগঞ্জ ও চিরিবন্দর উপজেলা থেকেও ছবি উপভোগের জন্য দর্শক সমাগম ঘটতো এখানে। পরবর্তী সময়ে হলটির ঐতিহ্য ধরে রাখতে সিনেমা হলসংলগ্ন সড়কের পূর্ব নাম ‘চাউল হাটি রোড’ বদলে ‘উত্তরা টকিজ রোড’ নামকরণ হয়।

স্থানীয়রা জানান, বছর কয়েক আগেও। সাধারণ দর্শকদের ভিড়ও ছিল লক্ষ্যণীয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার উৎসব ছিল কাউন্টারের সামনে। অনেকে অগ্রীম টিকিট বুক করতেন কাউন্টার থেকে। ঘাম ঝরিয়ে টিকিট কাটা কষ্টসাধ্য হলেও ভালো ছবি উপভোগ করে তা পুষিয়ে নিতেন দর্শক। সিনেমা ভালো হলে দুই থেকে তিন সপ্তাহ পর্যন্ত চলত প্রদর্শন। এখনো স্থানীয়রা স্মরণ করতে পারেন বদনাম, সারেন্ডার, নসিব, ঝিনুকমালা, বেদের মেয়ে জোসনা, আম্মাজান, কেয়ামত থেকে কেয়ামতসহ অনেক সিনেমার নাম।

হল-সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও স্থানীয় দোকানিরা জানান, কালক্রমে সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ও টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। সেই সঙ্গে ভালো ছবির বিপরীতে অশ্লীল ছবি প্রদর্শন, আপত্তিকর কর্মকান্ডসহ অঘটন দেখা দেয়। এতে দর্শক চাহিদা কমতে থাকে। ফলে কর্তৃপক্ষ হলের প্রধান ফটকে তালা মেরে বন্ধ করে দেন এর কার্যক্রম।

এদিকে সিনেমা হলটি বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে সেখানকার কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। জনসমাগম না থাকায় সিনেমা হল রোডের শতাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ দোকানপাটের ক্রয়-বিক্রয় তেমন ভালো চলছে না। হলসংলগ্ন মনিহারি দোকান মালিক নজরুল ইসলাম জানান, আগের মতো দোকানে বিক্রি-বাট্টা নেই, কোনো রকম চলে যাচ্ছে এই। প্রায় একই মন্তব্য করে মুদি ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন বলেন, সিনেমা হলের সুবাদে অনেকে নতুন নতুন দোকানপাট চালু করেন এখানে, কিন্তু হলটি বন্ধ হলে সব ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়।

হল বন্ধের বিষয় নিয়ে মালিক পক্ষের একজন রেহেনা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে জানান, দর্শক চাহিদা কমে যাওয়ায় এটি বন্ধ করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রগতি সংঘের সম্পাদক আমজাদ হোসেন বলেন, ভালো সিনেমা সবসময় দর্শক প্রিয়তা পায়, কখনো দর্শক চাহিদার বিপরীত অবস্থায় গেলে তা ফিরিয়ে দেন।

সিনেমা হলটি বন্ধ হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে একে পার্বতীপুরের একটি নক্ষত্রের পতন বলে মন্তব্য করেন সংস্কৃতিক অঙ্গনের একাধিক ব্যক্তি।

 

"