আষাঢ়ের শুরুতেই কোটালীপাড়ায় বসেছে নৌকার হাট

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

সুশান্ত বর্ণিক, (কোটালীপাড়া) গোপালগঞ্জ

বর্ষার আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় জমে উঠেছে নৌকার হাট। উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারের বালির মার্কেটে সপ্তাহে দুই দিন রোববার ও বৃহস্পতিবার ঐতিহ্যবাহী নৌকার এ হাট বসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রামশীল, রাধাগঞ্জ, কলাবাড়ী, সাদুল্যাপুর, কান্দি শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের পানিবেষ্টিত এলাকায় যোগাযোগের মাধ্যম এখনো নৌকা। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য খাল-বিল ও ডোবা-নালা। বর্ষার সময় এসব এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান বাহন হয় এই নৌকা। এছাড়া কৃষিকাজ ও মাছ শিকারসহ নানা প্রয়োজনে নৌকা অপরিহার্য।

গত রোববার কালীগঞ্জে নৌকার হাটে ঘুরে দেখা যায়, মেহগনি, কড়ই, আম, চাম্বল, রেইনট্রি গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি ডিঙি নৌকা মেলে এই হাটে। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি নৌকা দেখা গেল হাটে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি নৌকা ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও আশপাশের মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল থেকে ক্রেতারা এই হাটে নৌকা কিনতে আসেন।

উপজেলার শুয়গ্রাম থেকে হাটে আসা নৌকা ব্যবসায়ী সর্বানন্দ বাড়ৈ ও পরিমল বল্লভ বলেন, আজ ১০০টি নৌকা নিয়ে হাটে এসেছি বিক্রির জন্য। সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নৌকাগুলো আশা করি সব বিক্রি হয়ে যাবে।

হরিবর রায় নামে এক নৌকা ব্যবসায়ী বলেন, আমি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ২০টি নৌকা বিক্রি করেছি।

নৌকা তৈরির ব্যাপারে মিস্ত্রি রঞ্জন মধু বলেন, আমি এই নৌকাগুলো নিজেই তৈরি করি। বাড়িতে বসে এই নৌকা তৈরি করে হাটে নিয়ে আসি বিক্রি করতে। হাটে বিক্রি করে কাঠ ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়েও কিছু লাভ থাকে। তবে এখন প্রতিটি এলাকায় রাস্তা-ঘাট হওয়ার পর নৌকার ব্যবহার কমে গেছে বলে জানান তিনি।

অমল সরকার, গোলক বালা, সমির জয়ধর নামের নৌকার ক্রেতারা বলেন, আমাদের এলাকা পানিবেষ্টিত এলাকা হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তা-ঘাট হওয়ার কারণে এখন আর আগের মতো নৌকার প্রয়োজন হয় না। তারপরও গরুর ঘাস কাটাসহ নিজেদের কাজের জন্য নৌকা কিনতে এসেছি।

নৌকা হাটের ইজারাদার সুজন ফলিয়া ও সুকচাঁদ ফলিয়া বলেন, কালীগঞ্জে বিগত ১২ থেকে ১৫ বছর ধরে এই ঐতিহ্যবাহী নৌকার হাট বসে আসছে। হাটে দূও দূরান্ত থেকে ক্রেতারা নৌকা কিনতে আসেন। বিক্রি হওয়া প্রতিটি নৌকা থেকে শতকরা ১০ টাকা হারে টোল আদায় করা হয়। বর্ষার সময় প্রতি হাটে ৪০০ থেকে ৫০০টি নৌকা ওঠে। এর মধ্যে ৩০০ থেকে ৩৫০টি নৌকা বিক্রি হয়ে থাকে।

 

"