সৈয়দপুর পৌরভবন

১৬ বছরেও শেষ হয়নি ভবনের পূর্ণাঙ্গ কাজ

প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার নতুন পৌরভবনের ভিত্তিপ্রস্তরের ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি পূর্ণাঙ্গ ভবনের কাজ। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করা নিয়ে উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। ফলে ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত ওই ভবনটি। ২০০৩ সালে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়। সংস্কার ও তদারকির অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ইট এবং রড।

পৌর সূত্র জানায়, ১৯৫৮ সালে শহরের নতুন বাবুপাড়ার একটি হিন্দু পরিত্যক্ত ভবনে পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় ১৯৭২ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে থাকাকালীন তৎকালীন পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ বখতিয়ার কবির পৌর পরিষদের নিজ অর্থায়নে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক সংলগ্ন নিয়ামতপুর এলাকায় নতুন পৌর ভবন নির্মাণের জন্য ৬০ শতক জমি ক্রয় করেন। এরপর পুরাতন পৌরসভা সংলগ্ন ২০ শতক জমি, কাজীহাট পানি ট্যাংকি সংলগ্ন পশু কিল করার জন্য ৭৮ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি। কিন্তু সময়ের অভাবে তিনি ওই জমিতে দৃষ্টিনন্দিত কোনো কাজ করতে পারেনি।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৯ সালে বর্তমান পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার সাবেক চেয়ারম্যান বখতিয়ার কবিরের ক্রয়কৃত নিয়ামতপুর এলাকার সম্পত্তিতে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে ১ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌর চেয়ারম্যান থাকাকালীন অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৩ সালে ওই জমিতে তৎকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মান্নান ভূঁইয়া নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর শুরু হয় বাজেট অনুযায়ী নতুন পৌর ভবনের নির্মাণকাজ। কিন্তু সেটি মাত্র তিন মাসে অর্ধ নির্মিত করে সব নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০০৪ সালে আখতার হোসেন বাদল মেয়র নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সাত বছর দায়িত্বে থাকাকালীন প্রায় প্রতি বছর ওই ভবন নির্মাণে ১ কোটি টাকা করে বাজেট ঘোষণা করলেও কোনো কাজ করেননি। ফলে অর্ধ নির্মিতই রয়ে যায় ওই ভবনটি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমজাদ হোসেন সরকার ওই ভবন নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্যান্য কার্যক্রম চালালেও ভবনটি নির্মাণে কোনো ভূমিকাই রাখেননি। অথচ প্রতিটি বাজেটেই তিনি ওই ভবনটি নির্মাণের জন্য ১ কোটি টাকা করে বাজেট ঘোষণা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় প্রতি বছর পৌরসভায় শত কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাজেট মোতাবেক শহরে কোনো উন্নয়নই করা হয়নি। প্রতিটি বাজেটের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয় বছরে যত টাকা আয় হবে তত টাকা ব্যয়ও করা হবে। কিন্তু বাজেটের প্রচারপত্রে উল্লেখকৃত আয় ও ব্যয়ের অঙ্ক পরের বছরে অবশিষ্টের কথা উল্লেখ করা হয় না। বাজেট অনুযায়ী কী কী উন্নয়ন হয়েছে বা হচ্ছে তাও উল্লেখ করা হয় না প্রচারপত্রে। স্থানীয়রা আরো জানান, সৈয়দপুর শহরে এ পর্যন্ত যা উন্নয়ন হয়েছে সেটি বিশ্বব্যাংকের অর্থ দিয়েই এবং সে উন্নয়নও হয়েছে নয়-ছয় ভাবে। মেয়রের পছন্দের ঠিকাদার দ্বারা রাস্তা ও ড্রেন করা হয়েছে একেবারেই নিম্নমানের। শতভাগ উন্নয়নের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশের মতো সৈয়দপুরের উন্নয়ন চাইলেও তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। দুর্নীতিবাজ নয় এমন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারা তদন্ত হলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়বে বলে মতামত স্থানীয়দের। উন্নয়নের আশাবাদী শহরবাসীর দাবি নিয়ে কথা বলতে গেলে মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে নারাজ। কারণ তিনি অসুস্থ তাই কথা বলতে পারবেন না।

 

"