দক্ষিণাঞ্চলে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০

মো. রাজু খান, ঝালকাঠি

মে মাসে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা ওঠে গেলে আবার জেলেদের মুখে হাসি ফিরবেÑ এই আশা নিয়ে বুক বাঁধেন ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা। কিন্তু ইলিশ তার অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সারা দিন জাল ফেলেও দুই থেকে চারটির বেশি ইলিশ পাচ্ছেন না কোনো জেলে।

মৎস্য বিভাগের মতে, গত ১ জুন থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো নদী থেকে জেলেরা ফিরছেন বিষণœ মুখে। যেন বন্ধ্যা ভূমিতে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান এবং মেঘনা ও বরগুনা-পটুয়াখালী সাগর মোহনা। অপরদিকে সাগরে মাছ ধরায় রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। জেলেরা নদীতে জাল বিছিয়েছেন। কিন্তু বিধি বাম। মৌসুম শুরুর দুই সপ্তাহ পার হলেও ইলিশের দেখা মিলছে না নদীতে।

সারা দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টায় দুবার জাল ফেলে মাত্র চারটি ইলিশ পেয়েছেন জেলে অধীর মালো। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ওই দুটি ইলিশের নিলামে দাম ওঠে সাড়ে তিন হাজার টাকা। তিনি জানান, গত দুই দিনে চারজন মানুষের খাওয়ার খরচই হয়েছে হাজার টাকার মতো। এখন বেশির ভাগ জেলের একই অবস্থা। ইলিশ ধরা পড়ছে না শুনে জেলেরা নদীতে নামছেন না। কেউ কেউ মহাজন, এনজিওর কাছ থেকে ধারদেনা করতে শুরু করেছেন। জেলেদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মালিকদের কারণেই নদী এখন ইলিশ শূন্য। দ্রুত টাকার মালিক হতে নিষিদ্ধ মৌসুমে যে হারে জাটকা আর মা ইলিশ ধরা হয়েছে সে কারণেই এখন আর ইলিশ মিলছে না। জেলেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই নদী যেন ইলিশ শূন্য হয়ে পড়েছে। ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেরা নদীতে নামতে চাচ্ছেন না। মৌসুমের শুরু থেকেই মেঘনায় চলছে ইলিশের আকাল। জেলে নুরুল ইসলাম ও লতিফ রাঢ়ী জানান, জেলেরা ধারদেনা করে দিন কাটাচ্ছেন। জেলেদের আশা আগামী পূর্ণিমার ঢলে হয়তোবা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করবে। মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গভীর সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং মেঘনাসহ উপকূলের নদীগুলোতে মৌসুমের শুরু থেকেই ইলিশ মিলছে না। মোকামে বর্তমানে গত বছরের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ ইলিশও আসছে না। এ কারণে দামও এখন আকাশচুম্বী। জহির সিকদার বলেন, বর্তমানে কেজি সাইজের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে। যা গত বছর বর্তমান সময়ে ছিল ১ হাজার টাকা।

"