নবীনগরে সরকারি রাস্তা দখল করে দোকান নির্মাণ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার সলিমগঞ্জ ইউনিয়নে প্রকাশ্যে রাস্তা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন প্রভাবশালীরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো ভ্রƒক্ষেপ নেই।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ইউনিয়নে রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নবীনগর বাঞ্ছারামপুর নতুন সড়কের পাশে পুরাতন রাস্তাটি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করছেন এলাকার প্রভাবশালী মোহাম্মদ আলী আহম্মদ। সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড়াইল মৌজার বিএস ১৪৬৮ দাগে রাস্তার দক্ষিণ পাশে দখলকৃত রাস্তা দিয়ে জয়কালীপুর, জয়নগর, ইমামনগর, আগানগরসহ বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সঙ্গে উপজেলা সাধারণ জনগণের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। এই রাস্তাটি স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে সরকারি অনুদানে তৈরি হয়। প্রথমে মাটির রাস্তা, পরে ইটের সলিং, পরে বেশ কয়েকবার কার্পেটিং করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, প্রভাবশালী আলী আহম্মদ মিয়া পুরাতন রাস্তাটি দখল করে স্থায়ী পাকা ভবন তুলে টিনের চাল দিয়ে মার্কেট তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, নবীনগর টু বাঞ্ছারামপুরের নতুন রাস্তার কিছু অংশ দখল করে সেখানেও দোকান নির্মাণ করছেন। আরো দেখা যায়, রাস্তার পাশে বনবিভাগের একটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এলাকার মানুষ দখলের বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলামকে বেশ কয়েকবার মৌখিকভাবে জানালেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি। ওই রাস্তাটি দখল হয়ে যাওয়ায় রাস্তার পাশে ব্যাবসায়ীদের সমস্যা ও রাস্তার পাশে কয়েকটি গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচলের ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। মার্কেট উচ্ছেদ করে জনস্বার্থে জায়গাটি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আলী আহম্মদ বলেন, এটা যদি সরকারি রাস্তা হয়ে থাকে সরকার কাগজ দেখাক, এটা আমার ক্রয়কৃত ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

এ ব্যাপারে বাজারের ব্যবসায়ী শুক্কুর মাহমুদ বলেন, একটি সরকারি রাস্তা এভাবে দখল করা হচ্ছে কিন্তু প্রশাসন দেখছে না। এ রাস্তার পাশের মার্কেটের ব্যবসায়ী আমরা এই রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীসহ রাস্তার পাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। এ ব্যাপারে সলিমগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, এটি এলজিইডির রাস্তা আমাদের করণীয় কিছু নেই। এ ব্যাপারে সলিমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম বলেন, আলী আহম্মদ যে কাজটি করেছেন সেটা ঠিক করেননি, এতে জনস্বার্থ ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঙ্গেও কথা বলব।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের রাস্তা, দখলের বিষয়টি জানি না দেখতে হবে।

 

"