উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি

হঠাৎ বন্যায় বিদ্যালয় মাঠে অথৈ পানি

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যায় ডুবে গেছে নদীর তীরবর্তী সব বিদ্যালয়। তবে পাঠদান বিঘœ ঘটলেও বন্যার খবর জানেন না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিইও)। গত বুধবার সকালে লালমনিরহাটে তিস্তার ডান তীরের বিদ্যালয়গুলোর চারদিকে পানি দেখা যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, সন্ধ্যার মধ্যে পুরো জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

স্থানীয়রা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মঙ্গলবার হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা দেখে দেয়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ৮ হাজার পরিবার। বন্যায় তলিয়ে যায় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট। চারদিকে পানি থাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠানো অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা।

জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। এছাড়াও জেলার অনেক বিদ্যালয়ে বন্যার পানিতে পাঠদানে বিঘœ ঘটে। অভিভাবকদের দাবি, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় যাত্রা অনিরাপদ এবং বিদ্যালয়গুলোর মাঠে হাঁটুপানি ও কিছু বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষেও বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। তাই অনেক অভিভাবক তাদের ছেলে মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না।

মহিষখোচা ইউপি সদস্য মতিয়ার রহমান জানান, তার ইউনিয়নের ৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদানে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিদ্যালয়ে পাঠদান স্থগিত রাখার দাবি জানান তিনি।

গোবর্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তার জানান, বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাও নেই। তাই স্থানীয়দের সহায়তায় কলাগাছে ভেলায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিচ্ছেন তিনি। তবে বিষয়টি সকাল ৯টায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে মোবাইলে অবগত করেছেন। কিন্তু বিদ্যালয় চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এজন্য অনিরাপদ হলেও ভেলায় করে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। একই কথা বলেন গোবর্ধন চর-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজি শফিকুল ইসলাম। শুধু আদিতমারী উপজেলায় নয়। জেলার ৫টি উপজেলায় তিস্তার ডান তীরের অনেক বিদ্যালয়ে এমন চিত্র বিরাজ করছে। তবে তিস্তায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি ঘটলেও বাকি তিন উপজেলায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি বা জেলায় বন্যা চলছে সেটা আমার জানা নেই। কেউ বিষয়টি বলেনি। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলায় কতটি বিদ্যালয় বন্যাকবলিত এলাকায় রয়েছে সেটাও তার জানা নেই বলেও জানান তিনি।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার তিস্তার পানিপ্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এ পয়েন্টে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। তবে মধ্যরাত থেকে পানিপ্রবাহ কমতে থাকে। বুধবার (১৯ জুন) সকালে এ পয়েন্টি পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচে। সন্ধ্যার মধ্যে গোটা জেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি ঘটবে।

 

"