পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

শেষ ধাপ নির্বাচনে জোর প্রতিযোগিতা

প্রকাশ | ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

খুলনা ডুমুরিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যানসহ ৩ পদে ১৬ প্রতিদ্বন্দ্বী, মাদারীপুর সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের মধ্যে অঘোষিত লড়াই হচ্ছে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। বরগুনার তালতলীতে চেয়ারম্যানসহ তিন পদে ১৫ প্রতিদ্বন্দ্বী, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিন পদে লড়ছেন ১৪ প্রার্থী, সিরাগঞ্জের কামারখন্দে ২ পদে ১০ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিজয়নগর উপজেলায় প্রথমবারের মতো ইভিএমে ভোট দেবেন ভোটাররা। প্রতিনিধিদের পাঠান খবর :

খুলনা ব্যুরো : খুলনায় ডুমুরিয়া উপজেলায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ডুমুরিয়া উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৭৬ জন। নির্বাচনে ৩টি পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আছেন আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মোস্তফা সরোয়ার (নৌকা), ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার (হাতুড়ি) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এজাজ আহমেদ (ঘোড়া), মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান (আনারস) ও শাহনওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার (দোয়াত কলম)। এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন সাংবাদিক আব্দুল লতিফ মোড়ল, এম এ এরশাদ, গাজী আব্দুল হালিম, গোবিন্দ কুমার ঘোষ, গৌর চন্দ্র ঢালী, মো. মুজিবুর রহমান শেখ, শেখ জামিল আকতার ও সুমন কুমার ব্রহ্ম। এছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে আছেন মাকসুদা আকতার, শারমীনা পারভীন ও হাসনা হেনা।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ খুলনার ৯টি উপজেলার মধ্যে ৮টির নির্বাচন হলেও আদালতের নির্দেশে ডুমুরিয়া উপজেলার নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। ওই নির্বাচনে প্রথমে আওয়ামী লীগ থেকে মোস্তফা সরোয়ারকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও পরবর্তীতে শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দারকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু রিটার্নিং অফিস থেকে মোস্তফা সরোয়ারকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর বিরুদ্ধে শাহনেওয়াজ হোসেন প্রথমে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ও পরবর্তীতে ১৯ মার্চ হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

মাদারীপুর : মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ১১৫টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৯২ ভোটার তাদের ভোট দিবেন। তবে এর মধ্যে ১১০টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার।

নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সরকারের প্রভাবশালী এমপি সাজাহান খানের ছোট ভাই অ্যাড. মো. ওবাইদুর রহমান কালু খান। তবে কাজল কৃষ্ণের সঙ্গে আছেন আরেক ক্ষমতাধর নেতা আ.লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

এদিকে নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন বণিক সমিতির সম্পাদক তুষার ভুইয়া, সাবেক ছাত্র নেতা জাহিদুল ইসলাম, মো. সাহাবুদ্দিন হাওলাদার। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পারভীন জাহান, নার্গিস আক্তার ফারজানা নাজণীন, রোকসানা পারভীন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে নির্বাচনের আগের দিনও আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

তালতলী (বরগুনা) : প্রচার প্রচারনা শেষ আজ মঙ্গলবার বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬৮ হাজার ৭০৫ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কিন্তু নির্বাচনে তিনটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে ১৫ জন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চেয়ারম্যান পদে আছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সংগঠনে উপজেলা সভাপতি মো. রেজবিউল কবির জোমাদ্ধার (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফরহাদ হোসেন আক্কাস মৃধা (মোটরসাইকেল), বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান যুবলীগ সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মিন্টু (আনারস) ও মো. ইউনুস মিয়া (ঘোড়া) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে রেজাউল করিম বাবুল পাটোয়ারী (চশমা), মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান (তালা), কামরুল আহসান (বই), মো. নয়ন ব্যাপারি (মাইক), মো. খলিলুর রহমান (উড়োজাহাজ), হাজী আলম কবির (টিউবওয়েল), আ. সোবাহান (টিয়াপাখি), মো. মজিবুর রহমান ফরাজী (বৈদ্যুতিক পাখা)। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনিকা নাজনিন (কলস), কামরুন্নাহার সাথী (ফুটবল), দুলি বেগম (হাঁস) প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২১৮ জন। ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় ১১১টি ভোট কেন্দ্রে এসব ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হচ্ছেন আশরাফুল আলম সরকার লেবু (নৌকা), আহসান হাবীব খোকন (লাঙল), গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ (মোটরসাইকেল), খয়বর হোসেন সরকার মওলা (ঘোড়া)। এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে সফিউল আলম (চশমা), শওকত আলী (টিয়াপাখী), আব্দুর রাজ্জাক তরফদার (টিউবয়েল), আল শাহাদত জামান জিকো (তালা), আসাদুজ্জামান মনি (লাঙল), সুরুজিত কুমার সরকার (বৈদুৎতিক বাল্ব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন হোসনে আরা বেগম (লাঙল), আল্পনা রানী গোস্বামী (ফুটবল) ও উম্মে সালমা (হাঁস), হাফিজা বেগম কাকলী (কলস)।

কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) : সিরাজগঞ্জের ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিন কামারখন্দ উপজেলায় রয়েছে ৫০টি নির্বাচনী কেন্দ্র ভোট দিবেন ১ লাখ ২ হাজার ভোটার। এই উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকসহ মোট ৭ জন চেয়ারম্যান এবং ৩ পুরুষ ভাইস চেয়াম্যান প্রার্থী হিসাবে প্রতিদন্ধীতা করছেন। অপর দিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদন্ধীতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা যায়।

ইতি মধ্যেই, ব্যালট বাক্স আনা হয়েছে উপজেলায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩৫০ জন অতিরিক্ত পুলিশ, ২ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাব, ১২টি মোবাইল টিম, ১টি স্পেসাল টিম ও ৪ শত আনসার মোতায়ন করা হয়েছে বলে জানায়, কামরখন্দের ওসি পলাস চন্দ্র। এছাড়াও নির্বাচন সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সম্পুন্ন করার লক্ষ্যে ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার আবুল হোসেন ।

বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জেলায় প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট দিবেন ভোটাররা। ইতোমধ্যে উপজেলায় ৬৩টি কেন্দ্রের জন্য ৯৩০টি ইভিএমন মেশিন পাঠানো হয়েছে। উপজেলা মোট ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬১। ইভিএম মেশিন পরিচালনার জন্য প্রতি কেন্দ্রে দুইজন করে দক্ষ সেনাসদস্য দায়িত্বে থাকবেন। এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানপদে আওয়ামী লীগ মনোনীত একজন ও স্বতন্ত্র চারজন প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যানপদে তিনজন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানপদে দুইজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

"