ওজন জটিলতা কানসাটে আম বেচাকেনা বন্ধ

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০

অলিউজ্জামান রুবেল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ওজন জটিলতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বৃহত্তর বাজার কানসাটে আম বেচাকেনা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কাঁচা ও পাকা আম নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন এখানকার আম ব্যবসায়ীরা ।

মৌসুমের শুরুতে কেবলে কানসাট বাজারে জমে উঠতে শুরু করে আমের বাজার। এ অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিবগঞ্জ ও কানসাট এলাকায় ৪০ কেজিতে মণ আম কেনাবেচার নির্দেশ জারি করা হয়। গতকাল শনিবার অনেক ব্যবসায়ী বিষয়টি জানতে না পেরে শতশত মণ আম গাছ থেকে ভেঙে বাজারে আনেন। সকালে বাজারে এনে অনেকে প্রশাসনের এমন নির্দেশ জানতে পেরে হতাশ হয়ে পড়েন। আড়তদাররা আম না কেনায় দিনভর অপেক্ষা করেও আম বিক্রি করতে পারেননি আমের মালিকরা। আম ব্যবসায়িরা এ কথা জানান।

কানসাট আম আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদক ওমর ফরুক টিপু জানান, আদিকাল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কাঁচা মাল, বিশেষ করে আম, ৪৫-৪৬ কেজিতে এক মণ বিক্রি হয়। যা এক রকম নিয়মেই পরিণত হয়েছে। সে নিয়ম অনুযায়ী ব্যাপারী ও আড়তদাররা ৪৫-৪৬ কেজিই আম কিনে থাকেন। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, গোমস্তাপুরের রহনপুর ও ভোলাহাটে আগের নিয়মেই আম বেচাকেনা চললেও শিবগঞ্জ ও কানসাট বাজারে প্রশাসন মৌখিক ৪০ কেজির নির্দেশনা জারি করে। এই আম ব্যবসায়ি নেতার দাবি, প্রশাসনের ৪০ কেজির নির্দেশনা মানতে না পারায় কানসাটের প্রায় ৫০০ আড়তে শনিবার ভোর থেকে আম বেচাকেনা বন্ধ রয়েছে। ফলে লাখ টাকা লোকসানে পড়তে হবে এখানকার আম সংশ্লিষ্টদের। তিনি বলেন, সব উপজেলাতে আম কেনাবেচার একই নিয়ম জারি করা হোক।

ধোপপুকুর এলাকার আম ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দীন জানান, আমরা চলতি বছরে নগদে আম বিক্রি করতে পেরে আশায় বুক বেঁধেছিলাম। ফলে ৪৫-৪৬ কেজিতে আম বিক্রি করতে আমরা অসুবিধা মনে করিনি। কিন্তু প্রশাসন কৃষকদের দিক চিন্তা না করেই কোন উদ্দেশে ৪০ কেজির নির্দেশ দিয়েছে এটা ভাবার বিষয়। একই কথা বলেন শ্যামপুরের আম ব্যবসায়ী বাহাদুর, শাহবাজপুরের উমর ফারুকসহ অর্ধশতাধিক আম ব্যবসায়ী।

ঢাকার বাদামতলির আম ব্যাপারি আসলাম মৃধা বলেন, কাঁচা আম কিনে ঢাকায় নিতে অনেক আম পচে নষ্ট হয়। এছাড়া ওজনও কমে যায়। ফলে দীর্ঘদিন থেকেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৪৫/৪৬ কেজিতে আম কেনাবেচা হয়। হঠাৎ করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০ কেজিতে আম কিনতে নির্দেশ দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি। তিনি আরও জানান, ব্যবসা করতে এসেছি কিছু লাভের আসায়। কিন্তু ৪০ কেজিতে মণ করে আম কিনে কিছুই থাকবে না। ফলে ভোলাহাট অথবা রহনপুর চলে যেতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক এজেডএম নূরুল হক বলেন, জেলার সব আম সংশ্লিদের নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই ৪০ কেজিতে আম বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সব উপজেলাকে জানানো হয়েছে। কেউ যদি ৪০ কেজির উপরে আম কিনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"