প্রাণ ভুবনেশ্বর নদ

দখল-দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে ফরিদপুরের মানচিত্র থেকে

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

মাসুদুর রহমান, সদরপুর (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এক সময়ের প্রাণ খড়¯্রােতা প্রমত্তা ভুবনেশ্বর নদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। দখল ও দূষণে আজ মরা খালে পরিণত হয়েছে নদটি। ফসলের মাঠ ভূমিদস্যুদের দখলে বাড়িঘর নির্মাণ করে আবর্জনা ফেলে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এ নদ। নদের পাড়ে গড়ে ওঠা নদীবন্দরগুলোতে মালামাল আমদানি-রফতানি ও পরিবহনের সেই প্রাণচাঞ্চল্যতা নেই।

একসময় ফরিদপুরের সঙ্গে নদীবন্দরগুলো দিয়ে রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ চাঁদপুর, ভৈরব, চট্টগ্রাম, বরিশাল, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লঞ্চ, স্টিমার, গহনা ও বড় বড় নৌকা চলাচল করত। নদের পলিমাটিতে ফসলের মাঠের জমি উর্বরতা হারিয়েছে, নদের বুকে পালতোলা নৌকা, মাঝিদের কণ্ঠে ভাটিয়ালি গান, জেলেদের মাছ ধরা, পানি দিয়ে ফসলের সেচ দেওয়া সবকিছুই আজ বিলপ্তি হয়ে গেছে। ফলে পরিবেশের ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। সবই যেন আজ অতীতের ইতিহাস-ঐতিহ্য। বর্তমানে কোথাও মরা খাল, কোথাও ফসলের মাঠ কোথাও দখল-দূষণে মৃত্যুর প্রহর গুনছে ভুবনেশ্বরের বুকজুড়ে। এক দিন হয়তো ফরিদপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে নদটির নাম। নদটি মরে যাওয়ায় ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন, নগরকান্দা ও সদরপুর উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠে এখন আর পানি পাওয়া যায় না। নষ্ট হচ্ছে মাটির উর্বরতা। আজ ফরিদপুরবাসীর দাবি তুলেছেন নদটি খনন করে অতীতের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে জানা গেছে, অতীতে ভুবনেশ্বর নদই ছিল ফরিদপুরের প্রধান নদ। পরবর্তীতে কুমার নদ খনন করায় এই নদে শাখা প্রশাখা ও সংযোগ খালগুলো নিয়েই ফরিদপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য। ফরিদপুর সদর উপজেলার নাড়ারটেক নামক স্থানের পদ্মা নদী থেকে নদটির উৎসমুখ। জেলা শহরের টেপাখোলা চরভদ্রাশন উপজেলার চরহাজিগঞ্জ বাজার, নগরকান্দা উপজেলার গজারিয়াহাট, সদরপুর উপজেলা সদর, হাটকৃষ্ণপুর বাজার, বাবুরচর বাজার ও পিয়াজখালী হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদে মিলে ছিল। নদটিজুড়ে ছিল ফরিপুরের প্রাণচাঞ্চল্যের ঐতিহ্য। আজ আর সে ঐতিহ্য নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড নদটির উৎসমুখে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করায় এখন আর পদ্মা থেকে পানি প্রবাহ আসেনা। ফলে এর বুক জুড়ে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। ভূমিদস্যুরা ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাযোগে নদের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে লিজ নিয়ে দখল করে নিচ্ছে। যার ফলে নদের স্থানে স্থানে আজ ফসলের মাঠ ও ঘরবাড়ি দোকানপাট নির্মাণ করে দখল নিয়েছে প্রভাবশালীরা। এভাবে চলতে থাকলে এক দিন হয়তো নদের সব জমিই ভূমিদস্যুদের দখলে চলে যাবে।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিকট এলাকাবাসীর দাবি নদীটির দখলমুক্ত ও খননের মাধ্যমে পূর্বের বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা হোক।

 

"