শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আলট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন অকেজো

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জরুরি বিভাগে সার্বক্ষণিক থাকেন না চিকিৎসক। অফিস চলাকালীন বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে রোগী দেখেন তারা। হাসপাতাল থেকে ওষুধ সরবরাহ না করা ও হাসপাতালের খাবারের নিম্নমানের অভিযোগ করেন রোগীরা।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক থাকলেও তাদের অবহেলায় ভেঙে পড়েছে চিকিৎসাসেবা। উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লাখসহ পার্শ্ববর্তী জাজিরা ও মাদারীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক্স-রে মেশিন, ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। ফলে বাহিরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বাধ্য হন রোগীরা। বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে মোটা অংকের কমিশন পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।

উপজেলার যোগদাহের মাঠ এলাকার রোগী জুলেখা জানান, তিন ধরে এখানে ভর্তি হয়েছি। এর মধ্যে মাত্র একবার ডাক্তারের দেখা পাইছি। এছাড়া বহেরাতলা গ্রামের ভর্তি রোগী হালিমা জানান, পিত্তথলির রোগ নিয়ে এখানে ভর্তি আছি। কিন্তু ডাক্তাররা আসার পরই ফরিদপুর চলে যেতে বলছে। কিন্তু আমার মতো গরিব রোগী কি আর ফরিদপুর গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারেন? এমন আরো আরো অনেক রোগীই আছেন তাদের ক্ষোভের শেষ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতাল কর্মচারীদের কেউ কেউ নামে বেনামে ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় অভিযোগ পাওয়া যায়। রোগী আসলে ইশারা ইঙ্গিতের মাধ্যমে তাদের সেখানে যেতে বলা হয়। আবার কখনো দালাল নিয়োগ করে ডাক্তাররাই তাদের পছন্দমতো ক্লিনিকে নিয়ে যান রোগী। এছাড়া নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের কারণে বেশির ভাগ ভর্তি রোগী অন্যত্র থেকেই খাবারের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরজমিন দুপুর ১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেক কক্ষে বৈদ্যুতিক ফ্যান চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এম এ মোকাদ্দেসসহ কেনো কর্মকর্তা নেই হাসপাতালে। সাধারণ রোগী ও এলাকাবাসীর অভিযোগ দুপুর ১টা বাজতে না বাজতেই ডাক্তারা তাদের পরিচিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অথবা প্রাইভেট হাসপাতালের প্র্যাকটিসে চলে যান।

জনপ্রতিনিধি আয়শা সিদ্দিকা জানান, সমগ্র বাংলাদেশে যখন উন্নয়নের জোয়ার বইছে। তখন শিবচরের দুস্থ রোগীদের শেষ আশ্রয় এ হাসপাতালটির অব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ মানুষ। তবুও নৈরাজ্য, অনিয়ম ও চিকিৎসক সংকটকে পাশ কাটিয়ে সেবার মানসিকতা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অবহেলিত এ জনপদের মানুষের পাশে দাঁড়াবে এমনই প্রত্যাশা সবার।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অকেজো এ বিষয় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এরপরে আরো কোনো প্রশ্ন করলে তিনি তড়িঘরি করে মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।

 

"