ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে দাফতরিক কার্যক্রম

প্রকাশ | ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ভবনের মধ্যেই যাবতীয় দাফতরিক কার্যক্রম চলছে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদেও (ইউপি)। যে কোনো মুহূর্তে পুরো ভবনটি ধসে ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ইউপির সদস্য, কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসী।

জানা গেছে, ১৯৫৩ সালে ৫৬ শতাংশ জমির ওপর দুই কক্ষবিশিষ্ট ঈশান গোপালপুর ইউপির ভবন নির্মাণ করেন জমিদার ঈশান বাবু। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৮ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিউদ্দিন চৌধুরী ইউপির অর্থায়নে ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি হলরুম নির্মাণ করেন। ভবন দুটি দীর্ঘদিনের পুরাতন হওয়ায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জরাজীর্ণ ভবনটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পরিষদের ২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনের মাঝখানের ছাদের ইট-সুরকি-প্লাস্টার খসে পড়ে গেছে। বিমের ওপরের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দরজা-জানালার অবস্থাও বেহাল। বৃষ্টির সময় ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। অফিসের ভেতরে পানি ঢুকে স্যাঁতসেঁতে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় খিতিশ সাহা বলেন, আমাদের ইউপি ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে ডিজিটাল সেন্টার নেই। প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছি না। অন্যান্য ইউপিতে নতুন ভবন হলেও আমাদের ইউনিয়নে কোনো ভবন হয়নি। এখানে নতুন ভবন হলে ইউনিয়নের জনগণ সঠিক সেবা পাবে বলে মনে করেন তিনি।

ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের সচিব মন্টু সরকার বলেন, আমাদের ইউপিটি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। সংস্কারের অভাবে ভবনটি নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সঠিকভাবে ইউপির কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না। আমরা কোনো মিটিং করতে পারি না। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম করতে পারি না। ডিজিটাল সেন্টার চালাতে পারি না। দীর্ঘদিনের পুরাতন ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা কার্যক্রম চালাচ্ছি।

ঈশান গোপালপুর ইউপির চেয়ারম্যান মো. শহীদুল ইসলাম মজনু বলেন, ১৯৫৩ সালে ইউপি ভবন ও ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হলরুম। ভবনের ভেতরে জরাজীর্ণ অবস্থা। যে কোনো সময় এটি ধসে পড়তে পারে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি। ছাদের রড বের হয়ে গেছে। প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। ফ্যান চালাতে পারি না। ফ্যান চালালে ছাদ কাপে। ভবনটির সমস্যার কারণে আমরা জনগণকে সঠিক সেবা দিতে পারছি না। ডিজিটাল (ই-সেন্টারের) সেবা দিতে পারছি না। দ্রুত একটি ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

 

"