ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

কুমিল্লা অংশে আবর্জনার স্তূপ দুর্ভোগে যাত্রী-পথচারীরা

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

মারুফ আহমেদ, কুমিল্লা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের একাধিক স্থানে ফোর লেনের দুই পাশজুড়ে আবর্জনার দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সিটি করপোরেশন হোটেল রেস্তোঁরাসহ কয়েকটি স্থানে প্রতিদিনই নানা স্থান থেকে ময়লা আবর্জনা এনে রাস্তার পাশে ফেলা হয়। স্থানীয় কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, হাউজিং প্রকল্প বা ভবনের মালিকরা ট্রাক, পিকআপ, মিনিট্রাক, ভ্যান ছোট কাভার্ড ভ্যান ও রিকশাযোগে এসব স্থানে আবর্জনার ফেলায় বিশাল স্তূপ জমছে। এতে সৃষ্ট দুর্গন্ধে যানবাহনের যাত্রী ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। আর এসব আবর্জনার স্তূপে দেওয়া আগুনে পুড়ছে মহাসড়কের পাশে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। দিনের পর দিন এই প্রক্রিয়া বেড়ে চললেও আবর্জনা। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ কারোরই যেন কোনো উদ্যোগ নেই।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কটি বাংলাদেশের প্রধান সড়ক। সারা দেশের আমদানি-রফতানির সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে হচ্ছে। এখান থেকে মালামাল নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন গন্তব্যে ছুটছে অসংখ্য মালবাহী গাড়ি। পাশাপাশি দেশের প্রধান পর্যটন এলাকাগুলোও চট্টগ্রাম ও বৃহত্তর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, রামগড়, খাগড়াছড়ি, কাপ্তাই, রাঙামাটি, বান্দরবান, থানচি, রুমা, সাজেক, কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিনে যেতে হয় এ পথে। আমদানি-রফতানির বাইরেও দেশি-বিদেশি হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু বা পর্যটকদের নিয়ে তেমনি অসংখ্য যানবাহন আসা-যাওয়া করছে এই সড়কপথে। ফলে এমনিতেই মহাসড়কটিতে যানবাহনের অত্যাধিক চাপ।

এর বাইরে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে কুমিল্লা হয়ে নোয়াখালী, লক্ষèীপুর, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেটসহ বিভিন্ন গন্তব্যে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশটির ব্যবহার হয়েছে সর্বাধিক। মহাসড়কের অনেকটা মাঝামাঝি স্থানজুড়ে কুমিল্লার অবস্থিত। ব্যস্ততম এই মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা, বুড়িচং, কুমিল্লা সদর, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম প্রতিটি উপজেলার কোনো না কোনো অংশে প্রশাসনের নাকের ডগায় পৌরসভা, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি বা হাউজিং প্রকল্পের লোকজন ছোট পিকআপ, লেগুনা বা মিনি ট্রাকে করে প্রতিদিনই ময়লা-আবর্জনা মহাসড়কের কিছু স্থানে ফেলে যাচ্ছে। দিন দিন এভাবে ফেলা আবর্জনায় স্তূপ জমছে মহাসড়কের পাশে। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ।

মহাসড়কের উল্লিখিত স্থানগুলো পারাপারের সময় যানবাহনের চালক বাধ্য হয়ে গাড়ির জানালা বন্ধ রাখেন। এতে চলন্ত গাড়ির যাত্রীরা দ্রুত আবর্জনাস্থল অতিক্রম করে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলেও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। এভাবে মহাসড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ জমলেও হাইওয়ে পুলিশ, সড়ক ও জনপথ কর্তৃপক্ষের কোন খেয়াল নেই। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে আবর্জনা ফেলে সেগুলোতে আগুন দিচ্ছে তারা। এতে প্রতিদিনই আগুনে পুড়ছে মহাসড়কের পাশে থাকা মূল্যবান বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

সরেজমিন মহাসড়কের দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা, বুড়িচংয়ের কাবিলা, শাহদৌলতদপুর, নাজিরাবাজার, সদর উপজেলার আলেখারচর মোড়, সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ের পশ্চিম পাশে ফোরলেনের দুই পাশ এলাকাজুড়ে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। এতে ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে চরম দুর্ভোগে পড়েছে পথচারী ও যানবাহনের মানুষ।

দায়িত্বশীল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বাসাবাড়ির পচাবাসি খাবার বিভিন্ন মার্কেটের উচ্ছিষ্ট থেকে নির্গত তরল বর্জ্য রাস্তার পাশে ফসলি জমিতে পড়ে কৃষকদের চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মহাসড়কের দুই পাশে আবর্জনার স্তূপ ও আগুনে পোড়া গাছের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদারের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

হাইওয়ে (পূর্বাঞ্চল) কুমিল্লার পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব হচ্ছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মো. আহাদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টা জেনেছি, ইতিমধ্যে কয়েকটি দফতরে চিঠিও দিয়েছি, খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

 

"