মাধবপুরে পাহাড়ি ঢলে বেহাল যোগাযোগ ব্যবস্থা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

হামিদুর রহমান, মাধবপুর (হবিগঞ্জ)

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও স্থানীয় লোকজন। সম্প্রতি অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সোনাই নদীর তীর মাধবপুর দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের গ্রামে পানি ঢুকে গ্রামীণ অবকঠামো ও রাস্তাঘাট, কৃষকের ফসলের খেত এবং মৎস্যচাষিদের পুকুর তলিয়ে যায়। এতে অনেক কৃষক ও মৎসচাষি তাদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। সরকারিভাবে চার মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং রাস্তাঘাট মেরামত করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনের জন্য সরকারিভাবে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় খুব কম বলে দাবি করেন কৃষকরা।

রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব থেকে বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের মানুষ। চৌমুহনী এলাকার কৃষক জুয়েল মিয়া জানান, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে সোনাই নদীর আলাবক্সপুর নামক স্থানে বড় ধরনের ভাঙনে কমলানগর, হরিণখোলা, রামপুর, মনোহপুর, কমলপুর, দেবীপুর, নুরুল্লাপুর গ্রামে পানি প্রবেশ করে পুকুরে মাছ, গ্রামীণ কাঁচাপাকা রাস্তা ও বেশ কয়েকটি ছোট ব্রিজ স্রোতের তোড়ে ভেঙে গেছে। এতে জন দুর্ভোগ বেড়েছে।

চৌমুহনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আপন মিয়া জানান, এর আগে পাহাড়ি ঢলে চৌমুহনী এলাকার এমন ক্ষতি হয়নি। প্রতিটি গ্রামের ছোট বড় রাস্তা বানের পানিতে ভেঙে গেছে। রাস্তাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারি বিভিন্ন দফতরে জানানো হয়েছে।

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তৌফিকুল আলম চৌধুরী জানান, শাহপুর, জালোয়াবাদ, নোয়াগাঁও গ্রামের রাস্তাঘাট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহরা, আন্দিউড়া, আদাঐর ইউনিয়নের বেশকিছু গ্রামে পানি প্রবেশ করে গ্রামীণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

মনতলা অপরূপা বালিকা বিদ্যায়তনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান বাহার জানান, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে সোনাই নদীভাঙনে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মাধবপুরে সম্প্রতি পাহাড়ি ঢল ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য মাধবপুর চুনারুঘাট আসনের সংসদ সদস্য বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম জানান, মন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের আপাতত ৪ মেট্রিক টন চাল ও ঘরহারাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০০ বান্ডিল ঢেউটিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। গ্রামীণ ভাঙা রাস্তা বিশেষ টিআরের মাধ্যমে মেরামতের কাজ চলছে।

 

"