সড়ক যেন ধানের চাতাল ঘটছে দুর্ঘটনা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কাঁচা-পাকা সব সড়কেই চলে ধান মাড়াই ও খড় শুকানোর কাজ। এতে যানবাহনসহ জনসাধারণের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

উপজেলার বিভিন্ন যানবাহনের চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় সব পাকা সড়ক এখন খড় শুকানোর দখলে। খড়ের কারণে সড়কের দুই পাশ পিচ্ছিল হয়ে যাচ্ছে। ফলে যানবাহন বেশি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এছাড়া খড়ের কারণে সড়কের খানাখন্দ দেখা যায় না। এতে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এদিকে খড়ের কারণে সাইকেল, ভ্যান, রিকশার শ্রমিকদের দ্বিগুণ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। কোনো কোনো যান ওইসব সড়কে যেতে চায় না। ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হয় যাত্রীদের।

সরেজমিন উপজেলার তানোর-চৌবাড়িয়া, তালন্দ-কলমা, হাতিশাইল-কামারগাঁ ও দেবীপুর-মুন্ডুমালা সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কগুলো ধান ও খড়ের চাতালে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যেই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে তানোর-চৌবাড়িয়া সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলে উপজেলা শহরে যাওয়ার পথে এই প্রতিবেদকের সামনেই ধানতৈড় এলাকায় খড়ের ওপর পিছলে পড়েন প্রসেনজিত কুমার। এ নিয়ে খড় শুকানো কৃষকের সঙ্গে ঝগড়া হয় তার। প্রসেনজিত বলেন, প্রায় প্রতিদিনই এভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু প্রতিকারের কেউ নেই।

দেবীপুর-মুন্ডুমালা সড়কের ওপর ধান স্তূপ করে রাখছিলেন তালন্দ ইউনিয়নের কৃষক আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, আগের মতো বাড়ির সামনে মানুষজন আর ফাঁকা জায়গা ফেলে রাখে না, ঘরবাড়ি করে ফেলেছে। ধান মাড়াইয়ের জায়গার অভাব। তাই মানুষ নিরুপায় হয়ে সড়ক বেছে নিয়েছে। তিনি একা নন, তার মতো এলাকার প্রায় সব কৃষক এখন সড়কের ওপর ধান মাড়াই করেন। প্রায় একই কথা বলেন উপজেলার চাপড়া গ্রামের আলামিন আলী, কালনা গ্রামের আলম হোসেন, গোকুল গ্রামের মিন্টু হোসেন, সমাসপুর গ্রামের সুকুমার রবিদাসসহ একাধিক কৃষক।

মাইক্রোবাসের চালক কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে এ উপজেলার পাকা সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পথচারী ও যানবাহনের চালকরা একটু অসতর্ক হলেই নিশ্চিত দুর্ঘটনা ঘটবে। উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, অনেক স্থানে সড়কের ওপরই ধান মাড়াই, ধান ও খড় শুকানোর কারণে সড়কেরও ক্ষতি হচ্ছে। সড়কে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ করা ঠিক নয়।

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবু বাক্কার বলেন, উপজেলার বেশির ভাগ সড়কে ধান কাটা মৌসুমে এ রকম অবস্থার সৃষ্টি হয়। কৃষকরা মূলত জায়গার অভাবে এভাবে সড়কে আসেন। তবে এতে দুর্ঘটনারও খবর পাওয়া যায়। তারা লোকজনকে এতে প্রতিনিয়ত বারণ করছেন বলে জানান।

 

"