দিনাজপুরে ঋণ নিয়ে বিপাকে ভুট্টাচাষিরা

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর জেলার মাটি ও আবহাওয়া ভাল হওয়ায় ভুট্টার আবাদ বেশি হয় বলে কৃষকেরা ভুট্টা চাষে বেশ আগ্রহী। বিগত বছরগুলোতে ভুট্টার দাম ভাল পাওয়ায় এবছরও জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষক ভুট্টা চাষ করেছেন। এ বছর ভুট্টার ভাল আবাদ হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষীদের এখন মাথায় হাত। তারা ভুট্টা চাষ করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক কৃষক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করে ভাল ফলন পেলেও দেখছে না লাভের মুখ। কৃষকরা বলছেন লাভ তো দুরের কথা, এখন ঋণ আর সুদের টাকা পরিশোধ করতে বিপাকে পড়েছেন তারা।

জানা যায়, একটি চক্র কারসাজি করে নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণ করায় মাড়াই মৌসুমে আশানুরূপ দাম পান না কৃষকরা। আর যখন দাম বাড়ে তখন কৃষকের হাতে আর ভুট্টা থাকে না। ফলে লাভবান হন কতিপয় ব্যবসায়ী। বাজার দখলে রয়েছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে। তারা নানা অজুহাতে কম দামে ভুট্টা কিনছেন। ফলে দাম না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন কৃষকরা।

সূত্রটি আরো জানায়, পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও শীর্ষ ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি ভুট্টার বাজার। তারা সবাই এক হয়ে বাজার দর ঠিক করেন। এরপর ওই দামে ভুট্টা কিনে গুদামজাতকরণ করেন। কৃষক বাধ্য হয়েই কম দামে ভুট্টা বিক্রি করেন। কৃষকের হাত ছাড়া হলেই মণ প্রতি দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেড়ে যায়। এ বছর দিনাজপুরে লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। কৃষকের হাতে বাজারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় উৎপাদিত ফসল কৃষক ঘরে রাখতেও পারছেন না। অভাবের সংসারে টাকার প্রয়োজনে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। এ জন্যই ভুট্টার দাম কমে গেছে। যেসব ব্যবসায়ী ভুট্টা কিনে রাখছেন ঠিকই লাভবান হবেন তারা। কৃষকরা বাজার মনিটরিংয়ের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় তাদের উৎপাদিত ফসলে লোকসানের পর ভুট্টা চাষে কিছু লাভের স্বপ্ন ছিল। সেই ভুট্টাতেও তারা এ বছর সঠিক দাম পাচ্ছেন না। গত বছর এ সময়ে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা মণ দরে ভুট্টা বিক্রি হলেও এ বছর চলতি মৌসুমের শুরুতে দিনাজপুরে ৫৩০-৫৭০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষকেরা বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ভুট্টার ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় তেমন কোন ক্ষতিও হয়নি ক্ষেতের। তবে ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম নেই ভুট্টার। এ রকম দাম যদি আরও ক’দিন থাকে তাহলে পৈতৃক ভিটা বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই তাদের। কৃষকেরা আরো জানান, প্রতি বিঘায় ভুট্টা চাষে খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। জমি বর্গা বা ইজারা নিয়ে চাষ করলে খরচ আরও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বেশি লাগে। প্রতি বিঘায় গড়ে ৩০ মণ ভুট্টা পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৫৫০ টাকায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তৌহিদুল ইকবাল জানান, গত ১০ বছরে এ জেলার ভুট্টার আবাদ নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করছে।

জেলার একজন ভুট্টা চাষি বলেন, লাভবান হওয়ার আশায় দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলাম। খরচ হয়েছিল ১৬ হাজার টাকা। লাভ তো দুরের কথা ভুট্টা বিক্রি করে এখন আসল টাকা তুলতে পারবো কি না চিন্তায় রয়েছি।

ভুট্টা চাষি মো. সোহেল জানান, গত বছর ৭০০ টাকা মণ দরে ভুট্টা বিক্রি করলেও এ বছর ৫৬০ টাকা দরে ভুট্টা বিক্রি করেছেন তিনি।

 

"