হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

বাবাকে বাঁচাতে অবৈধ হ্যালোবাইকেই যাত্রা!

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

আজিজুল হাকিম, মানিকগঞ্জ

‘শ্বাসকষ্ট জনিতে রোগে আমার বাবাকে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তারের পরার্মশে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এ্যাম্বুলেন্সের কাছে গিয়ে দেখি গ্যারেজে তালা দেওয়ায়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এ্যাম্বুলেন্সের চালক নাই। উপায় না পেয়ে বাবাকে বাচাঁতে হ্যালোবাইকে করে ঢাকার দিকে রওনা দিলাম।’ অসহায়ের মত কেঁদে এসব বলেছিলেন হরিরামপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বইচর এলাকার পান্নু বিশ্বাসের মেয়ে হাসিনা বেগম।

তিনি আরো বলেন, ‘বুধবার সকালে আমার বাবার হঠাৎ করে শ^াসকষ্টে সমস্যা হয়। সাড়ে ১১টার দিকে তাকে হরিরামপুর হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে হাসপাতালের এক ডাক্তার বাবাকে রাজধানীর মহাখালী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। ডাক্তারের কথা মত দীর্ঘ সময় হাসপাতলে এ্যাম্বুলেন্স ও তার চালকের জন্য বসে থাকি। পরে চালকের নাম্বারে ফোন করে দেখি নাম্বার বন্ধ। এদিকে বাবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে বাধ্য হয়ে বিকেল ৪টার দিকে হ্যালোবাইকে ঢাকার দিকে রওনা দিতে হয়েছে।’

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪ বছর যাবৎ এ্যাম্বুলেন্সের চালক নেই মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এতে বিভিন্ন সমস্যায় পরতে হচ্ছে রোগীদের। হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থকমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স দুইটি থাকলেও একটি অকার্যকর এবং আরেকটি হাসপাতাল কমপাউন্ডে তালা বদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে হরিরামপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। এজন্য আন্তঃজেলা সড়জ সহ মহাসড়ক পারি দিতে হবে। কিন্তু ব্যাটারি চালিত হ্যালোবাইক মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ। গতকাল বুধবার পান্নু বিশ্বাসকে ব্যাটারি চালিত হ্যালোবইকে নেওয়ার ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে হাসপাতালের দায়িত্ব কর্তব্য এবং এ্যাম্বুলেন্স চালকদের প্রতি ক্ষোভ বিরাজ করছে। হরিরামপুরের মাসুদুর রহমান, মিজানুর রহমান, রাসেল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন বলেন, জেলার মধ্যে হরিরামপুর উপজেলা অন্যান্য উপজেলার চেয়ে সবকিছুতেই পিছিয়ে আছে। কিন্তু হাসপাতালে এ্যাম্বুলেন্স থাকবে না বা চালক থাকবে না এটা কী ভাবে হয়! দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের উপজেলায় এ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ন কোন রোগী হলে তাকে রিকশা ভ্যান বা হ্যালোবাইকে করে হাসপাতালে বা জেলা সদরে নিতে হয়। একটি চালক (আউট সোর্সিং) দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছে। সব সময় পাওয়া যায় না তাকে। যাও পাওয়া যায় সে সময় নানান ধরনের কথা শোনতে হয়।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমিন আখন্দ জানান, ২০১৬ সালে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের এ্যাম্বুলেন্স চালক অবসরে যায়। এরপর থেকে অন্য উপজেলার চালকরা এসে একদিন করে ডিউটি করে এবং একজন আউট সোর্সিং চালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোগিদের সেবা দেওয়ার জন্য সবাই আছে। সুতরাং সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। চালক না থাকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

"