সাতক্ষীরায় ‘ছেলেধরা’ আতঙ্ক

আটক মানসিক ভারসাম্যহীনদের নিয়ে বিপাকে কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

কিছুদিন আগে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছেলেধরা রোহিঙ্গা আতঙ্ক দেখা দিয়েছিলো। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচার প্রচারণা ও মাইকিং করা হয় শহর থেকে গ্রামঞ্চলে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনার পর একযোগে আটটি থানার অফিসারগণ নেমে পড়েন গণসচেতনতায়।

তবে প্রশাসনের গুজব কথাকে উড়িয়ে দিয়ে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুসিক ভারসমস্যহীন পুরুষ মহিলাদের গণপিটুনী দিয়ে থানায় সোপর্দ করে স্থানীয় জনতারা। ছেলে ধরা রোহিঙ্গা আতঙ্ক এতটাই প্রকট আকার ধারণ করে যে, শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঘর থেকেই বের হওয়া বন্ধ করে দেয়।

এদিকে, গণপিটুনী দিয়ে যাদের বিভিন্ন থানায় সোপর্দ করা হয় তারা সকলেই মানুসিক ভারসম্যহীন বলে জানায় পুলিশ। বর্তমানে ১৬-১৮ জন মানুসিক ভারসমস্যহীন পুরুষ ও নারী যারা গণপিটুনীর স্বীকার হয়ে থানা হেফাজতে ছিলেন। থানা থেকে তাদের পাঠানো হয় আদালতে। আদালত তাদের সকলকেই পাঠিয়ে দেয় জেলা কারাগারে। মানুসিক ভারসম্যহীন এসব মানুষদের নিয়ে বর্তমানে কারা কর্তৃপক্ষ পড়েছেন বিপাকে। তবে এসব মস্তিষ্ক বিকৃত মানুষদের সুস্থ স্বাভাবিক করে তোলার জন্যও কারা কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট আতœরিক।

সাতক্ষীরা কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান বলেন, কিছুদিন আগে ছেলে ধরা ও রোহিঙ্গা আতঙ্কের পর জনগণ গণপিটুনী দিয়ে যাদের থানায় সোপর্দ করেছেন তারা সকলেই এখন সাতক্ষীরা কারাগারে। ১৬-১৮ জন নারী ও পুরুষ রয়েছেন। পুরুষদের কারাগার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আর নারীরা রয়েছেন মহিলা কারা ওয়ার্ডে। তারা পাগল কিনা সেটি ডাক্তারই বলতে পারবেন তবে ধারণা করা হচ্ছে এসব মানুষগুলো সকলেই মস্তিষ্ক বিকৃত।

তিনি আরো বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এসব ভারস্যহীন মানুষগুলোকে আদালত থেকে জামিন ধরার জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আদালত জামিন দিলে তাদের মানুসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য আমরা আতœরিক ও সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছেলে ধরা রোহিঙ্গা ভেবে মানুসিক ভারসম্যহীন মানুষদের গণপিটুনী দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানিয়রা। পরে যাচাই করে দেখা যায় তারা সকলেই মানুসিক ভারস্যহীন। আটককৃত এসব মানুষগুলোকে নিরাপদে রাখতে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত সার্বিক বিবেচনায় তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

 

"