মৌলভীবাজারে ৪৮ ঘণ্টায় ৬ লাশ!

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মাত্র ৪৮ ঘন্টার ব্যবধানে মৌলভীবাজারে ৬ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোরী, বৃদ্ধ, নারী ও যুবক। গত দুই দিনে ঘটেছে হত্যা, আত্মহত্যার ঘটনা। তবে কিছু ঘটনায় গ্রেফতারসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ। থানা ও স্থানীয় সূত্রে এ খবরের নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ি, সোমবার দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নে পাওনা টাকা চাওয়ায় শহিদ উল্যা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন। আদমপুর ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কাউওয়ার গলা গ্রামে করিম মিয়ার কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে বলে সর্বশেষ পুলিশ জনিয়েছে।

এদিকে বড়লেখা উপজেলায় নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে লামিয়া আক্তার (১৪) ও শাম্মি আক্তার (১২) নামের দুই খালাতো বোন মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় বড়লেখা উপজেলার উত্তর পকুয়া গ্রামে তারা পুকুরে গোসল করতে নামে কিন্তু সাঁতার না জানায় দুজনে পানিতে তলিয়ে যায়। উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিকে ওই দিন সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকায় পান্না বেগম (৩০) নামে এক গৃহবধুকে তার স্বামীর ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী মতছিন ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলেন প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়।

এর আগে রোববার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে রাজনগর উপজেলার তারাচং গ্রামে হালিমা বেগম নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বামীর বাড়ির লোকজন মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা বললেও বাবার বাড়ির লোকজনের দাবি, তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালিক করা মামলায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিকে মৌলভীবাজার শহরের রোববার বিকালের সোনাপুরে আলমগীর হোসেন (২৭) নামের এক ওয়ার্কসপ শ্রমিক রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবার জানায় পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সচেতন নাগরীকদের দাবী, সামাজিক ও নৈতিকতা অবক্ষয়ের কারণেই দিনদিন দুর্ঘটনা ও অপরাধ বেড়েই চলছে। এর জন্য এখনই সচেতন না হলে ভবিষৎ প্রজন্ম অন্ধকারে ডুবে যাবে।

 

"