মহারশি নদীতে বালু উত্তোলন ভেঙে পড়ছে পাড়

* আক্রান্ত ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ি নদী মহারশি * সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্যের অভিযোগ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০

মুহাইমিনুল ইসলাম হুমায়ুন, শেরপুর

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি নদী মহারশির অন্তত ৮টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার পাহাড়ি বিভিন্ন ছড়া, খাল ও নদীতেও চলছে এই প্রতিযোগিতা। এতে পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়া ছাড়াও হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামীণ সড়ক। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে সন্ধ্যাকুড়ায় মহারশি নদীর সেতুসহ বেশ কিছু সেতু-কালভার্ট।

শক্তিশালী সিন্ডিকেট শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে এই বালু উত্তোলন করছে বলে জানা গেছে। পরে এই বালু বিক্রির জন্য প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দিচ্ছে তারা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উপজেলার পাহাড়ি নদী তাওয়াকোচা সুমেশ্বরী থেকেও বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এনিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের তরফ থেকে মোবাইল কোর্টে বসিয়ে বালু উত্তোলনের যন্ত্রপাতি জব্দ ও জরিমানা করছে। কিন্তু বালু উত্তোলন থেমে নেই।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ, মহারশি থেকে এভাবে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের কারণে বর্তমানে নদীর তীরবর্তী এলাকার বসতি ও আবাদি জমি ভাঙ্গনের কবলে বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

প্রশাসন ও তথ্য সূত্রে জানা যায়, জেলার ঝিনাইগাতি উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি সুমেশ্বরী নদীর তাওয়াকোচা বালু মহালটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আসাদুজ্জামান স্বপন নামে এক ব্যক্তি ১ বছর মেয়াদী ইজারা গ্রহণ করেন। এর মেয়াদ ১৪২৫ বঙ্গাব্দের ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র, ইংরেজী ১৪ এপ্রিল ’১৮ থেকে ১৩ এপ্রিল ’১৯ পর্যন্ত। সে অনুযায়ী দুই মাস আগেই এই মেয়াদ শেষ হয়েছে। এদিকে ইজারা মেয়াদ শেষের দিকে ১০ মার্চ ‘বালু ঠিকমতো উত্তোলন করতে না পারা লোকসান হয়েছে’ মর্মে হাইকোর্টে এক রীট পিটিশন দায়ের করেন ঠিকাদার। এর ভিত্তিতে আদালত ঠিকাদারকে ৭ এপ্রিল আরো ৬ মাস বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়।

অপরদিকে গত ২ মে এই আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বয়ং বাদী হয়ে সুপ্রীম কোর্টে আপীল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার কোর্ট হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত করে বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ২৪ জুন শুনানির আদেশ দিয়েছেন।

কিন্তু তারপরও অদৃশ্য শক্তির জোড়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করেনি ওই বালু ব্যবসায়ী স্বপন। বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অমান্য করায় গত ২৩ মে করায় আইজিপিসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

জানতে চাইলে ইজারাদার আসাদুজ্জামান স্বপন বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের শুনানি আগামী ২৪ জুন। ওই তারিখের আগ পর্যন্ত আমি বালু তুলতে পারবো। এছাড়া চেম্বার আদালতের অর্ডার স্থানীয় প্রশাসন বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখে আমাকে বালু উত্তোলন করার অনুমতি দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ জানান, চেম্বার জর্জের আদেশ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেব। এদিকে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ঝিনাইগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব বিশ্বাস বালু উত্তোলন কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার হওয়ায় তাকে অবহিত করা হয়েছে। তারা আমাদের সহযোগীতা চাইলে সহযোগীতা করবো।

এ ব্যাপারে সিভিল কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. খন্দকার রাকিবুল হাসান জানায়, মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে আসাদুজ্জামান কর্তৃক করা ২৬১৫/১৯ নং রীট পিটিশনের প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১০ মে স্থিতি অবস্থার আদেশটি ভূমি সচিব কর্তৃক আনিত ১৩৫৬/১৯ নং লিভ টু আপিলের মাধ্যমে স্থগিত হয়েছে। ফলে ইজারাদারের বালু উত্তোলণ আদালত অবমাননার সামিল।

শেরপুর এডিসি (রাজস্ব) এবিএম এহসানুল মামুন গতকাল সোমবার প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, আদালতের দুইটি আদেশ বিজ্ঞ জিপির মতামত চাওয়া হবে। মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"