‘ডাকপ্লেগে’ মরল ৩ সহস্রাধিক হাঁস

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সহনাটি ইউনিয়নের ধূপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের একটি হাঁসের খামারে গত ছয় দিনে রোগাক্রান্ত হয়ে ৩ হাজার ২০০ হাঁসের মৃত্যু হয়েছে। ‘ডাকপ্লেগ’ রোগে হাঁসের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে খামারি শাহীন মিয়া। তবে হঠাৎ করে হাঁসের এমন মৃত্যুতে দিশেহারা তিনি।

জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত খামারির পরিবার সূত্র জানা যায়, সহনাটি ইউনিয়নের পাতরাইল গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে শাহীন মিয়া বাড়িতে হাঁসের খামার করার জন্য এনজিও ব্র্যাক ও ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ থেকে ৩৮ হাজার টাকা ঋণ নেন। টাকার ঘাটতি হওয়ায় তার পিতা নিজ নামে এনজিও ব্র্যাক, আশা ও কৃষি ব্যাংক থেকে আরো ১ লাখ ঋণ তুলে ছেলের খামারে বিনিয়োগ করেন। চলতি বছরের মে মাসে নান্দাইল থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা দিয়ে সাড়ে ৩ হাজার হাঁসের বাচ্চা ক্রয় করেন তিনি। তিনমাস লালন-পালন, ওষুধ ও খাবার বাবদ ২ লাখ টাকা খরচ হয়। ঈদের পর সাড়ে ৩ হাজার হাঁস প্রায় ৫ লাখ টাকায় বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু ঈদের দিন থেকেই খামারে মড়ক দেখা দেয়। গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৩ হাজার ২০০ মারা যায়। মৃত হাঁসগুলো মাটিতে পুতে রাখা হয়েছে।

খামারি শাহীন মিয়া বলেন, খামাড়ে মরক লাগনের পর সুদে চল্লিশ হাজার টেকা ঋণ কইর‌্যা চিকিৎসা কইর‌্যা হাঁস বাঁচাইতে পারি নাই। পরে চট্টগ্রামের এক ডাক্তাররে সব খুইল্যা কইলে তিনি কইলেনÑডাকপ্লেগ রোগ হইছে। শনিবার গৌরীপুর পশু হসপিটালে গিয়া প্লেগের ভ্যাকসিন পাই নাই। চোখের সামনে হাঁসগুলো মইর‌্যা গেলো। এহন আমি খামু কি আর ঋন দিুম কেমনে।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল করিম বলেন, শনিবার দিন হাসপাতাল বন্ধ ছিল। হাসপাতালে প্লেগ রোগের ভ্যাকিসিন কিছুটা সঙ্কট থাকায় চাহিদা পাঠান হয়েছে। আমাদের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ না করা ও নিয়মনীতি না জেনে হাঁস পালন করায় অনেক সময় হাঁস রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তাই ওই খামারির হাঁস প্লেগরোগেই মারা গেছে কিনা পরীক্ষা-নীরিক্ষা না করে বলা যাচ্ছে না।

 

"