বর্জ্য-আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ লালমনিরহাট পৌরবাসী

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বর্জ্য আর আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে লালমনিরহাট পৌরবাসীরা। পৌর এলাকার বিভিন্ন রাস্তায় জমে থাকায় আবর্জনার স্তুপ থেকে আসা পঁচা দুর্গন্ধ চলাচলের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন না থাকায় ব্যবসায়ী ও বাসাবাড়ির নিত্যদিনের ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলছে। ঈদ-উল-ফিতর উদযাপনের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে ফেলার কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে করে শহরের পরিবেশ দুষিত ও নোংরা হচ্ছে।

পৌরবাসীর দাবি, ময়লা ফেলার ডাম্পিং গ্রাউন্ড থাকলেও তা ব্যবহারে অব্যবস্থপনা রয়েছে। ফলে যত্রতত্র ময়লা ফেলা আবর্জনা সামান্য বৃষ্টিতে পঁেচ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে পৌরসভা পরিচ্ছন্নকর্মীদের দাবি, তারা নির্দিষ্ট সময়েই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন।

প্রায় অর্ধশত বছর আগে পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত এখানে সুষ্ঠু বর্জ্য অপসারনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কাগজে-কলমে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেণির হলেও জনবল কাঠামোসহ নানা সংকটে শহরের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ময়লা অপসারণের জন্য পৌরসভার পানি ব্যবস্থপনা কার্যালয়ের পাশে একটি গর্ত ভাগাড় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও প্রকৃত অর্থে আজ পর্যন্ত কোন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই টানা বর্ষণে জমে থাকা ময়লা যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুর্গন্ধে আবাসিক এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালতগামী মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট পৌরসভাটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭.৪০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় ওয়ার্ড রয়েছে মোট ৯টি। ২০০৫ সালে এটি দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত হয়। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী পৌরসভার মোট জনসংখ্যা ৬২ হাজার ৪৬৭ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌর এলাকার সুরকিমিল, খোর্দ্দসাপটানা, শাহজাহান কলোনি, মিশনমোড় থেকে কুলাঘাটগামী শহরের প্রধান শড়কের দুইপাশে, নবাবের হাট সংলগ্ন, নর্থবেঙ্গল রোড, কুড়াটারী, খোচাবাড়ি, শহরের মিশন মোড়ের আশপাশে অস্থায়ীভাবে ময়লার স্তুপ আকারে পড়ে আছে দীর্ঘ সময় ধরে। পরিচ্ছন্নকর্মীরা মাঝে মধ্যে আবর্জনা ফেলতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোয় গেলেও অধিকাংশ স্থানের ময়লা দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। ফলে সামান্য বৃষ্টির পানিতে এসব ময়লার স্তুপ যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে মশা-মাছির আবাসস্থল।

অপরদিকে শহরের আলোরূপা সিনেমা হলের পেছনে পুকুর এবং ঢাকা স্টান্ডের পিছনে ময়লার স্তুপ করে রাখার কারণে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে এসব এলাকার আবর্জনার দুর্গন্ধে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়ের ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া, রমজান আলী, মনতাজ আলী, হোটেল ব্যবসায়ী গোবিন্দ, স্থানীয় অধিবাসী রানিছা বেগম, শাহানা খাতুনসহ অনেকে বলেন, ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধের কারণে শহরের মানুষ এখন অতিষ্ঠ। হোটেল ও রেঁস্তোরাগুলোতে চা, নাশতা খাওয়ার পরিবেশ নেই। রাস্তা-ঘাটে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, পৌর শহর থেকে দূরে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা-আবর্জনা মজুদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

শহরের সাপটানা এলাকায় বসবাসকারী একাধিক পরিবার জানায়, আবর্জনার কারণে মশা মাছির উপদ্রুপ বেড়েই চলেছে। যার কারনে তাদের ছেলে মেয়েরাসহ পরিবারের সবাই প্রায়ই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এই ময়লা আবর্জনার অপসারনের জন্য পৌর মেয়রকে একাধিকবার বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

লালমনিরহাট পৌরসভার পরিছন্নতা পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ জানান, শহরের আবর্জনা অপসারনের জন্য ঝাড়–দার রয়েছে ৯৪ জন, ড্রেন ক্লিনার আছে ২৪ জন, আবর্জনা ফেলার লেবার রয়েছে ২১ জন। এছাড়া আবর্জনাবাহী ট্রলি ৬টি এবং ট্রাক রয়েছে ৩টি। কিন্তু ট্রাকগুলি মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই (প্রায় চল্লিশ বছর আগে কেনা)। ফলে একটি ঠিক থাকলে অপরটি সচল না করার কারনে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে।

এই পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা বলেন, আমাদের চাহিদার চেয়ে ৩টি ট্রাক কম রয়েছে। এছাড়া আবর্জনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপসারণের জন্য ৩টি হাইড্রোলিক ট্রাক প্রয়োজন যা এর আগে ছিল। তবে নষ্ট হওয়ায় পৌরসভা চত্বরে দির্ঘদিন থেকে সেগুলো পড়ে আছে। এদিকে পৌরসভা চত্বরের শেডে থাকা একটি ট্রাকের ব্যাটারি কয়েকদিন আগে চুরি হয়ে গেছে। তার দাবি, স্থানীয় একটি চক্র প্রায়ই এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। ফলে যানবাহন সংকটে শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কিসমত আলী বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ‘গাড়ি নষ্ট’, ‘দেরি হবে’ ইত্যাদি নানাভাবে টালবাহানা করেন। এ বিষয়ে তিনি মেয়রের নিকট অভিযোগ দেয়ার পরামর্শ দেন।

লালমনিরহাট পৌরর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের গাফিলতির বিয়ষটি স্বীকার করে বলেন, ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থা আর বেশিদিন থাকবে না। তিনি শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

 

 

"