বিজয়নগরে বিকল্প রাস্তা ভেঙে দুর্ভোগে ৪ ইউনিয়নবাসী

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

মাইনুদ্দীন রুবেল, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প রাস্তা ভেঙে দুভোর্গ পোহাচ্ছেন উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। ভারতীয় পাহাড়ি পানির তোড়ে ভেসে গেছে সেতুর পাশের এই সড়কা। ফলে গজারিয়া খালের উপর বাঁশের নড়বড়ে অস্থায়ী সাঁকোই এখন একমাত্র ভরসা।

রাস্তার ভাঙার সাতদিন পার হলেও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার কেউই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন নি স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে বলছেন, তারা ছুটিতে আছেন। আর প্রকৌশল অধিদপ্তর বলছে, ভাঙা স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে বেইলি সেতু করে দেওয়ার সুযোগ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আউলিয়া বাজারের এই রাস্তা ব্যবহার করে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের উত্তর দিকে পাহাড়–পুর কচুয়ামোড়া, খাটিঙ্গা, ধুরানাল, অলিপুর, সহদেবপুর গ্রামের প্রায় ১৪ হাজার এবং দক্ষিণদিকে সেজামোড়া, কামালমোড়া, পশ্চিম সেজামোড়া, গোয়ালনগর, রোপা, কালাছড়া গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চলাচল করে। এছাড়াও উপজেলার হরষপুর, পাহাড়পুর, বিষ্ণুপর ও সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষও এই রাস্তা ব্যবহার করে। উপজেলার মুকুন্দপুর রেলওয়ে স্টেশনও পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং জেলা শহর থেকে ট্রেনে মুকুন্দপুর রেলস্টেশনে নেমে এই আউলিয়া বাজারের এই রাস্তা মানুষকে ব্যবহার করতে হয়।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজারের দক্ষিণ দিকের গজারিয়া খালের উপর পুরনো সেতুটি ভেঙ্গে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল কার্যালয় (এলজিইডি)। মেসার্স লোকমান ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণের কাজটি পান। দুই মাস আগে পুরনো সেতুটি ভাঙ্গার কাজ শুরু করে সপ্তাহখানি আগে শেষ হয়। পুরনো সেতু ভেঙ্গে ফেলার মানুষের চলাচলের জন্য সেতুর পূর্বদিকে মাটির বিকল্প একটি রাস্তা তৈরি করা হয়।

উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা এলাকা পাহাড়পুর। গত ২ জুন সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে উপজেলায় ভারতীয় পাহাড়ি ঢল নামে। পাহাড়ি পানির বেগ বেশি থাকায় গত ৩ জুন ভোরসকালে মাটির বিকল্প রাস্তটি ভেঙ্গে পানিতে ভেসে যায়। গত ২ ও ৩ জুন স্কুল পড়–য়া স্কুউট সদস্যদের সহযোগিতায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ নিজ উদ্যোগে বাঁশের একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেন।

শনিবার সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুর পূর্বদিকে রাস্তাটির প্রায় ২০-২৫ ফুট ভেঙ্গে ভেসে গিয়ে সেখানে প্রায় ৪-৫ ফুট গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। এক সঙ্গে বেশি মানুষ উঠলে বাঁশের সাঁকোটি কাঁপতে শুরু করে। দুই পাশের সাঁকোর নিচের মাটিও সরতে শুরু করেছে। যে কোনো মুহূর্তে সাঁকোটি ভেঙ্গে যেতে পারে।

উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামের আনিস মিয়া ও জাহাঙ্গীর আলম প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় বাঁশের সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। সাঁকোর যে অবস্থা উঠলেই মনে হয় এই ভেঙ্গে যাবে। চলাচলে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ¯œাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র অলিপুর গ্রামের লুৎফর রহমান বলেন, রাস্তা ভাঙ্গার জন্য ইউনিয়নের দক্ষিণ দিকে কোনো মানুষ যাতায়ত করতে পারছে না। ঈদের আগে এমন অবস্থা হওয়া মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, মানুষের চলাচলের জন্য মাটির বিকল্প রাস্তাটি পাহাড়ি পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এতে পাহাড়পুর ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামসহ উপজেলার চার ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তা এই অবস্তার সাতদিন পার হলেও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা এবং ঠিকাদার কেউই ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেননি।

ঠিকাদার লোকমান হোসেন বলেন, শ্রমিকদের বাড়ি চট্টগ্রামের চকরিয়ায়। তারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি চলে গেছে।

বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষে সেখানে বেইলি সেতুর নির্মাণের কোনো ব্যবস্থা নেই। ঈদের ছুটির কারণে একটু দেরি হয়েছে। এখানে খুব শিগগির একটা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

"