প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে এখনো পর্যটকের ভিড়

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের জাফলংয়ে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঈদ আনন্দকে ভাগাভাগি করতে পর্যটক দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত জাফলং জিরো পয়েন্ট, ফাটাছড়া মায়াবতী ঝর্ণা, রাতারগুল, সোয়াম ফরেস্ট, বিছনাকান্দিসহ সবকটি পর্যটন কেন্দ্রই যেন লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠেছে। এদিকে জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল, গোয়াবাড়ী, শ্রীপুর, কোম্পানিগঞ্জের সাদা পাথর কেন্দ্রটি ও পর্যটক দর্শনার্থীর নজর কেড়েছে।

এদিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের তামাবিল থেকে জাফলংয়ের ৪ কিলোমিটার, সারীঘাট থেকে গোয়াইনঘাট হয়ে বিছনাকান্দি যাওয়ার পথে সড়কের খনাখন্দ গর্তময় সড়কে যানবাহন আটকে পর্যটকদের দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। ফলে জাফলং বিজিবি ক্যাম্প, জাফলং বল্লাঘাটসহ প্রকৃতির কন্যা জাফলংয়ের সড়কে দেখা দিচ্ছে যানজট। পর্যটক দর্শনার্থীরা পায়ে হেঁটে শত কষ্টেও ছুটে চলেছেন প্রকৃতির কাছাকাছি। এছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে জাফলংসহ আশপাশে গড়ে উঠা সবকটি আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউস, কটেজ, রিসোর্টগুলোআগেই বুকিং হয়ে গেছে বলে জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা।

ঢাকার উত্তরা থেকে স্বপরিবারে আসা শাহাব উদ্দিন মুন্সি জানান, ঈদের ছুটি কাটাতে এবারও তিনি জাফলংয়ে এসেছেন। তবে এর এখানে অনেকবার এলেও এখানকার প্রাকৃতিক মায়া যেন তাকে ঘাপটে রেখেছে। তবে আগেরবারের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের উন্নতি এবং পর্যটনের উন্নতি তার কাছে স্বস্তি এসেছে।

মায়াবী ঝর্ণায় কথা হয় শ্রী মঙ্গল থেকে আসা ঝুমা বৈদ্য নামের এক তরুণীর সাথে। তিনি বলেন, জাফলং তিনি অনেকবার এসেছেন। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তার হৃদয় কেড়েছে। ঝর্ণার শীতল জলে গা ভিজানো, সবুজ পাহাড় সব কিছুরই প্রেমে পড়ে গেছেন।

ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ের পাদদেশে সবজু বিস্তৃত পাহাড়, টিলা, পাহাড়ের গায়ে মেঘের আভা, ভয়ে আসা নদী ও ঝর্ণাধারার নির্গত স্বচ্ছ জলারাশির সাথে খেলা করে সাঁতার কাটায় বিমুগ্ধ পর্যটকরা। নরসিংদী থেকে আগত শাওন জানান, জাফলং সত্যিই খুই মনোমুগ্ধকর জায়গা। যতবার আসি ততবারই ভালো লাগে।

জাফলংয়ে ঘুরে দেখা যায়, হাজার হাজার পর্যটক দর্শনার্থীর ভিড়। পযর্টক দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে মুখরিত ছিল সংগ্রাম বিজিবি ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকা। বিজিবি ক্যাম্প ঘেঁষা সদ্য নির্মিত সিঁড়ি বেয়ে পর্যটকরা নিরাপদে জিরো পয়েন্টসহ আশপাশে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। ডিঙ্গি নৌকা, ইঞ্জিল চালিত বড় নৌকা কিংবা স্পীডবোডে পরিবার পরিজন কিংবা বন্ধু বান্ধবদের সাথে নিয়ে ঈদের আনন্দের সময়টুকু কাটাতে তারা ছুটে আসেন জাফলং, রাতারগুল, পান্তুমাই মায়াবতি ঝর্ণা, বিছনাকান্দিসহ অত্রাঞ্চলের সবকটি পর্যটন স্পটে।

পর্যটন পুলিশ জাফলং অঞ্চলের অফিসার ইনচার্জ দেবাংশু কুমার দে জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে পর্যটন পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন পয়েন্টসহ পুরো পর্যটন কেন্দ্রে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ঈদের ছুটির পুরোটা সময় পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমাদের পুলিশী টহল অব্যাহত থাকবে।

গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত কুমার পাল জানান, সরকার পর্যটনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণে সারাবছরই এখন গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। বরাবরের ন্যায় এবারো জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুলসহ এই উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রলোতে পর্যটক দর্শনার্থীর আগমন বেড়েছে। পর্যটক নিরাপত্তায় প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠন করা হয়েছে। রোবার স্কাউটসহ স্বেচ্ছাসেবী বিভিন্ন সংগঠনও কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জাফলংয়ে পর্যটকদের পানিতে ডুবে মৃত্যু হ্রাস কল্পে নেওয়া হয়েছে মাইকিংসহ তথ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে বিহীত ব্যবস্থা।

পর্যটকরা জানান, জাফলং, বিছনাকান্দির পাথর উত্তোলন নামক ধ্বংসলীলা চিরতরে বন্ধ করে একটি পরিবেশ নিরাপত্তার বেষ্টনীভূক্ত করে পর্যটনের জন্য বিনিয়োগ করলে জাফলং ও বিছানাকান্দি থেকে সরকারের বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব।

 

 

"