মধুখালী রেলস্টেশনে টিকিট নেই ১৫ দিন

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

মতিয়ার রহমান মিঞা, মধুখালী (ফরিদপুর)

ফরিদপুরের মধুখালী রেলস্টেশনে লোকাল ট্রেনের টিকিট নেই ১৫ দিন ধরে। অথচ কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেলপথে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা দিকে স্টেশনে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। স্টেশন মাস্টার বলেন, দুই মাস আগে টিকিট চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠালেও কর্তৃপক্ষ টিকিট পাঠাচ্ছেন না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাটিয়াপাড়া থেকে ছেড়ে আসা কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেসটি মধুখালী স্টেশনে প্রবেশের আগে সেখানে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ যাত্রী দাঁড়িয়ে আছেন। যাত্রীরা টিকিট চাইলে দিতে পারছেন না স্টেশন মাস্টার। ট্রেনের ভেতর টিকিট কালেকশন করেন একজন টিটি। তার একার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না সব যাত্রীকে চেক করতে। এর ফলে এক শ্রেণির অসাধু যাত্রী ভাড়া ফাঁকি দিয়ে গন্তব্য স্থানে যাচ্ছেন। এতে প্রতিদিন রেলের হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মধুখালী রেলস্টেশন মাস্টার মিন্টু কুমার রায় জানান, মধুখালী রেলস্টেশনে ১৫ দিন কোনো লোকাল ট্রেনের যাত্রী টিকিট নেই। যাত্রীদের উত্তর-দক্ষিণের কোনো রেলস্টেশনেরই যাত্রী টিকিট দিতে পারছি না। দুই মাস আগে টিকিটের চাহিদা পাঠালেও কর্তৃপক্ষ টিকিট পাঠাচ্ছেন না। মধুখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মির্জা মনিরুজ্জামান বাচ্চু জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রেললাইনটি বর্তমান সরকারের সদিচ্ছায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। বিনা টিকিটে যাত্রী চলাচল করলে এ লাইনটি লোকসানের মুখে পড়বে। তিনি দ্রুত টিকিট সরবরাহের দাবি জানান।

মধুখালী পৌরসভার মেয়র খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন বলেন, লোকসান ঠেকাতে জরুরিভাবে কর্তৃপক্ষকে টিকিট সরববরাহ করতে হবে যাতে করে যাত্রীরা টিকিট কেটে গাড়িতে উঠতে পারে।

স্টেশনে অপেক্ষমান যাত্রী ও অভিজ্ঞমহল জানান, বেশ কয়েক দিন ধরে ঘরমুখো ঈদযাত্রীর বেশ চাপ রয়েছে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনটিতে। বর্তমানে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতেও এ লাইনে চাপ রয়েছে যাত্রীদের। কিন্তু টিকিট না থাকার সুযোগে প্রতিদিন বিনা টিকিটে যাত্রী চলাচল করছে। এর ফলে সরকার লাখ লাখ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে এ দিকে নজর দেওয়া দরকার। তা না হলে রেলকে মোটা অঙ্কের টাকা লোকসান গুনতেই হবে।

 

"