ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন

ট্রেনে চেয়ার পেতে যাত্রী বহন, তবু বাড়তি ভাড়া

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদ্যাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবীরা। বাস ও ট্রেনযোগে প্রতিদিন ফিরছেন হাজারো মানুষ। কিন্তু যাত্রীর তুলনায় বাস, ট্রেন সঙ্কট ও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে কর্মস্থল ফেরত যাত্রীরা। ফিরতি পথে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া ও ট্রেনের টিকিট কালোবাজারীর হচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না অভিযোগ যাত্রীদের।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিন, নামায ঘর এমনকি টয়লেটের সামনেও চেয়ার যাত্রী তুলছেন অ্যাটেনডেন্সরা। এ জন্য আদায় করা হচ্ছে উৎকোচ।

গতকাল শনিবার সকালে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেনের এক্সট্রা-ঝ বগিতে উঠার সময় ট্রেনযাত্রীরা টাকা না দেওয়ায় দরজা আটকে রাখেন অ্যাটেনডেন্স নূর নবী। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন তিনি।

এদিকে ঈদের পরের দিন বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকাগামী বলাকা কমিউটার ও মহুয়া কমিউটার ট্রেনেও ফিরতি পথের যাত্রীদের বাড়তি চাপ ছিল। আসনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় ওই দুই ট্রেনের টিকিট অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বাসের ভাড়া ২৫ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা ও গৌরীপুর থেকে ময়মনসিংহগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশার ৪০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা করে রাখা হচ্ছে যাত্রীদের কাছ থেকে। অপরদিকে পৌর শহরের হারুনপার্ক এলাকায় ঢাকাগামী ধূমকেতু বাসের ২২০ টাকার টিকিট ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

বাসযাত্রী আব্দুর রাকিব বলেন, ঈদ ও অন্যান্য উৎসব উপলক্ষে অন্যান্য দেশে যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য ভাড়া কমিয়ে দেয় পরিবহন কর্তৃপক্ষ। অথচ আমাদের দেশে চিত্র ভিন্ন। আজ গৌরীপুর বাসট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ গামী বাসের ২৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা রাখা হয়েছে। কিন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারহানা করিম বলেন, আমি ছুটিতে আছি। যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়টা আমি জেনেছি। এ বিষয়ে আমি এসিল্যান্ডকে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।

 

"