নবাবগঞ্জে ইছামতীর পাড়ে মুরগির বর্জ্যরে স্তূপ

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

ইমরান হোসেন সুজন, নবাবগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহমান ইছামতির পাড় যেন মুরগীর বর্জ্যরে স্তুপে পরিণত হয়েছে। নদী তীরবর্তী একাধিক বাজারের পাশের এই দৃশ্য দেখা গেছে। এতে বর্জ্যে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। নাপ চেঁপেও চলাচল কঠিন হয়েছে দাঁড়িয়েছে। উপজলার ব্যাস্ত এলাকা বান্দুরা সেতুর নিচে বাজারের মুরগীর বর্জ্যরে স্তুপ দেখা গেছে। এতে সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী পথযাত্রীদের নাক চেপে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ঈদ উপলক্ষে বেড়ে যায় মুরগির চাহিদা। পুরাতন বান্দুরা বাজারে মুরগির দোকানগুলোতে ঈদের আগেরদি মঙ্গলবার দিনভর ছিল ভীড়। সারাদিন মুরগি বেঁচার পর দোকানদাররা রাতে বান্দুরা সেতুর উপর থেকে মুরগীর বর্জ্য ফেলে ইছামতি নদীতে। সেতুর নিচে সৃষ্টি হয় বিশাল ময়লার স্তূপ। সকাল থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে সেই ময়লা থেকে। দিন যত গড়াতে থাকে গন্ধ বাড়তে থাকে। এতে ঈদের দিন থেকেই চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয় নদীর তীরবর্তী মানুষজনকে। গন্ধ এতই তীব্র যে ব্রিজ উপর দিয়ে গাড়িতে চলাচলকারী অনেককে উগলে দিতে দেখা যায়। শনিবার বিকালেও বর্জ্যের গন্ধ ছিল তীব্র।

এলাকাবাসী জানান, প্রতিদিনই বাজারের মুরগীর ব্যবসায়ীরা রাতে ইছামতি নদীতে মুরগির বর্জ্য ফেলে। এতে নদীর পানির সঙ্গে পরিবেশ দূষিত হলেও বাজার কমিটি সম্পূর্ণ নির্বিকার। নদীতে নিয়মিত বর্জ্য ফেলার কারষে স্থানীয়রা নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছে না। ইছামতি নদীতে ¯্রােত না থাকায় ময়লাও সরে যায় না।

বান্দুরার বাসিন্দা আনোয়ার বলেন, প্রতিদিনই নদীতে বর্জ্য ফেলে মুরগির ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগেরদিন যেহেতু বেচাকিনি বেশি ছিল তাই বর্জ্যও বেশি। রাতে সব বর্জ্য বাজারের পাশে নদীতে ফেলা হয়েছে। গন্ধে বাড়ীতেও থাকা যাচ্ছে না। বাজার কমিটি সব দেখেও নির্বিকার। অনেকবার এব্যাপার বাজার কমিটিকে জানানো হলেও তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। প্রশাসনের উচিত মুরগীর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

নতুন বান্দুরা কলেজ ছাত্র সাব্বির আহমেদ বলেন, গন্ধ এতই প্রকট ব্রিজের উপর দিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। আমরা গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ইছামতি নদীর পানি ব্যবহার করতাম। কিন্ত এখন বর্জ্যের কারনে পানির অবস্থা এতই খারাপ যে পানি কোন কাজেই আসছে না।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরাতন বান্দুরা বাজার একটি ব্যস্ততম বাজার। তবে সেই তুলনায় উন্নয়নের ছোঁয়া নেই। মুরগি ব্যবসায়ীরা বর্জ্য কোথায় ফেলবে তার নির্দিষ্ট কোন স্থান নির্ধারণ করতে পারেনি বাজার কমিটি। নিরুপায় হয়ে ইছামতি নদীকেই ডাস্টবিন হিসেবে বেছে নিয়েছে মুরগী ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, আমি বাজারের উন্নয়নের জন্য টাকা দেই। কিন্তু উন্নয়ন কিছুই হয়নি। সারাদিন মুরগি বিক্রির পর যে বর্জ্য হয় তা আমরা কোথায় ফেলবো। বাজার কমিটি থেকে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে নদীতে বর্জ্য ফেলি। ময়লা ফেলার জন্য আমাদের জায়গা দেওয়া হোক আমি নদীতে ময়লা ফেলবো না।

 

"