ইনানী সি-বিচে পর্যটকের ঢল

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)

ঈদ উপলক্ষে টানা ছুটিতে পর্যটকদের দেশ-বিদেশের পর্যটকের ঢল নেমেছে অব্যাহত কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর সি-বিচে। এখানে আয়নার মতো স্বচ্ছ নীলাভ পানি, কোরালের ছড়াছড়ি আর পড়ন্ত বিকালে সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য নজর কেড়েছে দর্শণার্থীদের। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের লীলা ভূমি ইনানী বিচ পর্যটকদের আনন্দ ভ্রমণে যোগ করেছে ভিন্নমাত্রার প্রফুল্ল্য।

ইনানী বীচের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রকৃতি আপনা-আপনিতেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে অসংখ্য কোরাল। এসব কোরালের রহস্যময়ী অবস্থান অবলোকন করতে হুমড়ি খেয়ে দেশ-বিদেশ থেকে এই বীচে আসে হাজারো পর্যটক। ইনানী বিচের অদূরেই রয়েছে আরো মন মাতানো প্রশান্তিদায়ক পাটুয়ারটেক সি-বিচ। পাটুয়ারটেক সি-বিচের একটু পূর্বে পাহাড়ের নিচে ঐতিহ্য ঘেরা রহস্যময়ী কানা রাজার গুহা। কানা রাজার গুহার পাশেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ফইল্লা চাকমার মাচাং ঘর। সেটি দেখতে উৎসুক থাকে পর্যটকরা।

পশ্চিমে বিস্তীর্ণ নান্দনিক সমুদ্রের ঢেউ, পূর্বে উঁচু পাহাড়, তার মাঝেই ইনানী সী-বীচ। পৃথিবীর দীর্ঘতম বেলাভূমি কক্সবাজার থেকে টেকনাফ বীচের উখিয়ার ইনানী সী-বিচ দেখতে ও সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে সাধারণ দর্শনার্থীদের চেয়ে রাজধানীসহ দূর-দুরান্ত থেকে আসা ভিআইপি পর্যটকদের পদচারনা অনেক বেশি। স্বাধীনতার পর থেকে ইনানী বিচের আকর্ষণ গুরুত্ব বেড়েছে।

কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনের চেয়ে ইনানী বিচে অবকাশ যাপন ও দর্শনে অধিক সময় ব্যয় করতে চাইলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আবাসিক হোটেল-মোটেল না থাকায় কক্সবাজারে ফিরে যেতে হয় বলে জানালেন সিলেট থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সাদেকুর রহমান ও নিলুফা রহমান। ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে ভ্রমণে আসা পর্যটক সঞ্জয় দাশ, ফেনী থেকে আসা পর্যটক মোর্শেদুল হক, রাজশাহী থেকে আসা দম্পতি শাহ মোয়াজ্জেম ও শাকিলা ইয়াছমিন, চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকার প্রফেসর নুর মোহাম্মদসহ একাধিক ভ্রমণ পিপাসু এ প্রতিবেদকে বলেন, লম্বা ছুটি থাকায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমরা এখানে বেড়াতে এসেছি। আমরা আগে শুনেছিলাম ইনানী সি-বিচে সূর্যাস্তের কথা, কিন্তু বাস্তবে দেখে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।

পর্যটকরা বলেন, সমুদ্রের পানিতে নেমে গোসল, প্রবাল পাথরে বসে ছবি তুলেছি। ইনানী বিচের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখতে পর্যটকদের কিছু সময় হাতে নিয়ে আসতে হলেও ভাটার সময় এই বিচের পানি যেমন নীলাভ দেখায়, তেমনি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কোরাল পাথুরের উপর ছুটাছুটি স্মৃতির মানসপটে ফটোসেশন করা, সূর্যাস্ত দর্শন আরও কত কিচ্ছু মনকে আন্দোলিত করে তোলে। আবার জোয়ারের সময় থেকে কিছুক্ষণ অবস্থান কালে জোয়ারের স্বচ্ছ পানিতে ঢেউয়ের আছড়ে ক্রমেই ছড়িছিটিয়ে থাকা অসংখ্য কোরালের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, ইনানীর বড় ও ছোট খালে জোয়ারের পানিতে টুইটুম্বর হওয়া, খালে মাছ ধরার নৌকা ও ফিশিং বোটের নড়াচড়া, ইনানীর পাশেই সবুজ-শ্যামল গ্রামের চিরাচরিত চিত্র, পাহাড়ের সবুজ গাছ-গাছালি, বিচের লাল কাঁকড়াদের হুড়োহুড়ি, সাগরে জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য দেখতে কার না ভাল লাগে।

 

 

"