কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

ফরাজী মো. ইমরান, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতে পর্যটকদের ভিড় জমেছে কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকতে। ঈদের এই লম্বা ছুটিতে হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর সৈকত। এসব পর্যটকদের আতিথেওতা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এছাড়া পর্যটকদের নিñিদ্র নিরাপত্তায় কাজ করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌপুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের দিন থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত সৈকতের সি-বিচসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে দেশ-বিদেশের নানা বয়সের হাজারো পর্যটকের ভিড়। পর্যটকের ভাড়ে দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার সৈকতে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের আগের থেকে পরের দিন পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও সমুদ্রের ঢেউয়ের উন্মাদনার সঙ্গে নেচে-গেয়ে গোসল করছেন পর্যটকরা। সৈকতের বালিয়াড়িতে পাতা বেঞ্চ ছাতার নিচেসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নানা বয়সের মানুষ গল্প, গান আর আড্ডায় মেতে রয়েছেন। ঘুরতে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সাথে নতুন নতুন বন্ধুত্বের সুযোগে হাতের মোবাইল দিয়ে সেলফি তুলে পোস্ট করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে। কেউ কেউ আবার সৈকতে ফুটবল ও হাডুডু খেলায়ও মেতে রয়েছে। এছাড়া দ্রুতগামী স্পিড বোটগুলো উচ্চ শব্দ করে একের পর এক পর্যটক বোঝাই করে গভীর সমুদ্রে ছুটে যাচ্ছে। এছাড়া ছোট ছোট ফাইবার বোটগুলো নানা বয়সি পর্যটকদের নিয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ছুটে যাচ্ছে।

এদিকে আবাসিক হোটেল, খাবার ঘর ও শপিংমলসহ পর্যটনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেড়েছে বেচা-বিক্রি। স্থানীয় রাখাইন মার্কেট, নারিকেল বাগান, ইকোপার্ক, জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার, সুন্দরবনের পূর্বাঞ্চল খ্যাত ফাতরার বনাঞ্চল, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, লেম্বুর চর, শুটকি পল্লী, লাল কাকড়ার চর ও সৈকতের জিরো পয়েন্টে শিশু, যুবক-যুবতীসহ নানা বয়সি পর্যটকদের পদচারণায় এখন মুখোরিত কুয়াকাটা। আর এসব পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তায় বিভিন্ন দুর্গম স্পটেও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা জাহিদ জানান, ঈদের দিন থেকেই কুয়াকাটায় বৃষ্টি হচ্ছে। আর এই বৃষ্টিতে ভিজে নাচে গানে উল্লসিত হয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করছি। কুমিল্লা থেকে আসা আরেক পর্যটক জুলহাস মিয়া জানান, প্রথম কয়েক দিন বৈরী আবহাওয়া থাকা সত্ত্বেও এখানকার প্রাকৃতিক নৈসর্গিক দৃশ্য দেখে বিমোহিত হয়েছি।

সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম মিরন জানান, ঈদের প্রথম দিকে হোটেল বুকিং না থাকলেও এখন মোটামুটি ভালোই বুকিং আছে। ঈদের পর থেকে পর্যটকের ভিড় বাড়ছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের সিনিয়র এএসপি মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে আগত পর্যটকদের বাড়তি নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের দুটি মোবাইল টিম গঠন রয়েছে। ফাতরার বন ও লেম্বুরচরসহ বিভিন্ন দুর্গম স্পটে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া সাদা পোশাকেও ট্যুরিস্ট পুলিশের নজরদারি রয়েছে।

 

"