নিরাপত্তাহীনতায় পাঠদান

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

ওয়ালি মাহমুদ সুমন, নীলফামারী

ভবনের দেয়ালে, ছাদে, বিমে ধরেছে অসংখ্য ফাটল। খসে পড়েছে পলেস্তারা। মাঝে-মধ্যেই ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর। এতে বিভিন্ন সময় আহতও হয়েছে অনেকেই। শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে করতে হচ্ছে লেখাপড়া। নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২২টি ঝুকিঁপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনে চলছে পাঠদান। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে নির্দেশনা পেলেই আগামী জুলাই মাসের মধ্যে এসব বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈয়দপুরের গোলাহাট রেলওয়ে কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়া ২নম্বর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিস্ত্রিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কয়া ১নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২২টি বিদ্যালয় ভবনের বেহাল দশার চিত্র। এসব ভবণ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার পরও চলছে পাঠদান। বর্ষায় ভবনের ছাদ চুয়ে মেঝেতে জমে হাট পানি। ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের পোষাক আর বই খাতা। যে কোনো মুহূর্তে ভবনধসে পড়ার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে চলছে পাঠদান। জানান কয়া ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম। গোলাহাট রেলওয়ে কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমিনুল ইসলাম মুকুল বলেন, ছাদ থেকে পলেস্তারা খুলে পড়ছে। উপর তলায় কোন ক্লাস নেওয়া হয় না। নিচতলায়ও ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগকে জানানো হয়েছে। একই কথা বলেন মিস্ত্রিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হালিমা খাতুন।

তবে আতঙ্কের মধ্যে পাঠদানের কথা স্বীকার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে নির্দেশনা পেলেই আগামী জুলাই মাসের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ শুরু করা সম্ভব। এসব বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় এসব বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হবে।

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী মনিটরিং অফিসার হাসান তারিক বলেন, শুধু সৈয়দপুর উপজেলায় নয় গোটা জেলায় অন্তত দেড়শ বিদ্যালয়ে এরকম অবস্থা রয়েছে। সেগুলোর তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে নির্দেশনা এলে বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

"