ভালুকায় ভিজিএফের চাল বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউপি কার্যালয়ে রাখা ভিজিএফ চাল স্টোর রুম থেকে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ৩ মে সোমবার দুইজন পুরুষ মেম্বার ও দুইজন সংরক্ষিত নারী মেম্বার চৌকিদারের বাঁধা উপেক্ষা করে স্টোর রুম থেকে এই চাল বিক্রি করে দেন। ঈদ উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে বিতরণের এই চাল রাখা হয়েছিল।

জানা যায়, আঙ্গারগাড়া বাজারে অবস্থিত ডাকাতিয়া ইউপি কার্যালয়ের স্টোর রুম থেকে সোমবার ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার নেয়াজুর রহমান ইউসুফ, ৪ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার আসাদুজ্জামান দুদু, ৭, ৮ ও ৯ সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার সামছুন্নাহার ও অপর মহিলা মেম্বার মাজেদা আক্তার মিলে ভিজিএফের বস্তাসহ চাল জনৈক চালব্যবসায়ী মারফত আলী মারফুর নিকট ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। দর কষাকষির পর বিক্রিত চালের টাকা ইউছুফ মেম্বার বুঝে নেন। পরে চাল বিক্রির টাকা তারা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এ সময় চৌকিদারের বাঁধা দিলেও তা অমান্য করেন এই মেম্বারগণ। তবে অপরএক চৌকিদারকে স্টোর থেকে চালের বস্তা বের করতে দেখা গেছে। এ সময় ইউপি চত্বরে কোন ভিজিএফ কার্ডধারী উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি বাইরে জানাজানি হয়ে গেলে এ নিয়ে তোল পার শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী চৌকিদার আক্তার মিয়া জানান, তিনি মেম্বারদের চাল বিক্রির ব্যাপারে বাধা দিয়েছেন, তারা বাধা মানেননি, স্টোর রুম থেকে ১৮ বস্তা চাল বের করে বিক্রি করেছেন বলে তিনি জানান।

চাল বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নেয়াজুর রহমান ইউসুফ জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার, ঝাড়–দারদের মধ্যে বিক্রিত টাকা বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। তবে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, চাল বিক্রির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ইউনিয়নের সব কার্ডধারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চাল বিক্রি বিষয়টি আমার জানা নেই।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার নইমুদ্দিন জানান, আমি নিজে উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেছি। চাল বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি। অতিরিক্ত ১ মেট্টিক টন চাল খোলা বাজারে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, বিষয়টি তদন্তাধিন রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান, বিজিএফ এর চাল বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন সরেজমিনে তদন্তের কাজ করতে যাচ্ছেন।

 

"