বৈরী আবহাওয়ায় বাগেরহাটে সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজে ভিড়

প্রকাশ | ০৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

মামুন আহম্মেদ, বাগেরহাট

বৃষ্টির কারণে ঈদের দিন পর্যটকের সংখ্যা একটু কম হলেও পর দিন ভিড় জমেছে ওয়ার্ল্ড হ্যরিটেজ সুন্দরবনে। সেই সঙ্গে ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং হযরত খানহাজান আলীর (র.) মাজারসহ সংলগ্ন স্থাপত্য দেখতে ভিড় করছেন হাজারো পর্যটক। ঈদের ছুটি শুরুর সঙ্গে সঙ্গে জেলার পর্যটন কেন্দ্র সুন্দরবন রিসোর্ট, শহরের দড়াটানা নদীর পাড়ে অবস্থিত পৌর পার্ক ও চন্দ্রমহলও ভিড় করেন দেশ-বিদেশের পর্যটকরা। এদের ভিড় সামল দিতে রীতি মতো হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এবার এই সব ভ্রমণ কেন্দ্রে হাজার হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জেলা প্রতœতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

খুলনা থেকে বাগেরহাট জাদুঘরে প্রায় ৬শ বছর আগে খানজাহানের পুরাকীর্তির দেখতে আসা সুমি আক্তার জানান, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও প্রতœতত্ত্ব বিভাগের যাদুঘরে রাখা বহু বছর আগের পুরাকীর্তির নিদর্শন দেখে ভালো লেগেছে। বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান মো. গোলাম ফেরদৌস বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ইসলাম ধর্মের মানুষের কাছে পবিত্র স্থান ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের দেশ-বিদেশের পর্যটকরা এখানে সারা বছরই পরিদর্শনে আসেন। ঈদের দিন বৃষ্টির কারণে পর্যাটকদের আগমন কিছুটা কম হলেও ঈদের পরদিন থেকে ব্যাপক পর্যটকের আগমন ঘটেছে। এ দুটি স্পটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশের বহু সংখ্যক মানুষ ভ্রমনে এসেছে।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করেই ঈদের ছুটিতে সুন্দরবন প্রেমীরা ছুটে আসছে করমজলে। ঈদের ছুটি কাটাতে ও আনন্দ উপভোগ দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের দর্শনীয় স্পটগুলোতে। বনবিভাগ বলছে, বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও ঢাকা, রাজশাহী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, যশোর ও সাতক্ষীরাসহ দূরদুরান্ত থেকে পর্যটকেরা সুন্দরবন দেখার জন্য ছুটে আসছে। তবে আবহাওয়া যদি এরচেয়ে আর খারাপ না হয়ে তাহলে এ ভীড় থাকবে আরো কয়েকদিন ধরে।

শুধু করমজলই নয় হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, কটকা, কচিখালীসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকরে আনাগোনা বেড়েই চলেছে। তবে করমজল বনের কাছাকাছি ও যাওয়া-আসা সুবিধাজনক হওয়াতে সব সময়ই বেশি ভিড় হয়ে থাকে এখানে। গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবারও ব্যতিক্রম ছিল না করমজলের চিত্র। ঘুরাঘুরির জন্য রয়েছে বন প্রহরীদের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।

করমজল পর্যটন কেন্দ্র ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পর্যটকেরা সুন্দরবন ভ্রমণে আসছে। ঈদের দিন বিকেল থেকে লোকজন আসতে শুরু করেছে এ বনে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর আগমন ঘটেছে করমজলে। এবারের ঈদে যেহেতু ছুটিটাও বেশ বড় তাই আবহাওয়া মোটামুটি খারাপ থাকলেও পর্যটকের ভিড় রয়েছে যথেষ্ট।

 

 

"