ঈদ কেনাকাটায় ভিড় বাড়ছে জেলা-উপজেলার মার্কেটে

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

ঈদুল ফিতরের এখনো বাকি ১০ দিন। প্রকৃতিতে জ্যৈষ্ঠের তীব্র তাপদাহ। তারপরও ক্রেতারা নেমে পড়েছেন কেনাকাটায়। শেষ মুহূর্তে পছন্দের কাপড় ফুরিয়ে যাবে, দামও থাকবে চড়া। তাই মধ্যরোজা থেকে কেনাকাটা শুরু করেছেন তারা। ফলে জমে উঠেছে জেলা-উপজেলার ঈদ বাজারগুলো। এদিকে ক্রেতাদের ভিড়ে বিক্রেতাদের মুখে ফুটেছে হাসির ঝিলিক। এদিকে ক্রেতাদের কাছে টানার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তারা। ক্রেতাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন পোশাক ও অলংকারে সাজানো হয়েছে শপিংমলগুলো। বর্ণিল আলোক সজ্জায় জলমল করছে মার্কেটগুলো। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠান খবর:

চট্টগ্রাম লোহাগাড়া উপজেলা প্রতিনিধি জানান, গরমের মাত্রা বেশি থাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দোকানগুলোতে ভিড় একটু বেশি ক্রেতাদের। তবে সাধারণ দোকানগুলোতেও মানুষের কমতি নেই। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত শপিংমল, সবখানে চলছে কেনাকাটা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর লোহাগাড়ার প্রতিটি মার্কেট। এরমধ্যে তরুণ-তরুণীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। এদিকে দেশীয় জামদানি, টাঙ্গাইল ও তাঁতের নতুন ডিজাইনের শাড়িসহ নারীদের বিভিন্ন পোশাক বিক্রি হচ্ছে ধুম। ফ্যাশনের পাশাপাশি ঐতিহ্যতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন নারীরা। আর প্রচুর কালেকশনের পাশাপাশি দাম এখনো কম থাকায় খুশি তারা।

জানা যায়, গুজরাটি চিকেন ব্রান্ডের কাপড় প্রতি গজ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়, জয়পুরী কটন ৪৭০ থেকে ৫০০, সিল্কের কাশ্মীরি কাতান ৩০০ থেকে ৩৫০, বোটা জর্জেট ১৮০ থেকে ২০০, মুম্বাই নেট ৫০০ থেকে ৫৫০, স্টোন নেট ৪৫০ থেকে ৫০০, ভেলভেট ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০, বোম্বে বুটিকস ৭০০ থেকে ৭৫০ এবং দিল্লি কটন ৬৫০ থেকে ৮৫০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, প্রতি বছর ক্রেতাদের পছন্দের ধরন পাল্টাচ্ছে। সেইসঙ্গে বদলাচ্ছে চাহিদার হিসাব-নিকাশ। এবার লিনেন, সুতি, জর্জেট, কাতান, জামদানি কাপড়ের প্রতি বেশি আগ্রহ ক্রেতাদের। এবার বাজারে আসা নতুন ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে বাহুবলী ক্রেজ, লেহেঙ্গা ও সারারা।

স্টার সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী সাত্তার সিকদারসহ একাধিক বিক্রেতারা জানান, প্রতি গজ লিনেন কাপড় বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। জর্জেট কাপড় ১৩০ থেকে ১৫০ ও ভারতীয় কাতান ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। জামদানি কাপড় বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

কলাউজান এলাকা থেকে আসা তছলিমা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, ছোট মার্কেটগুলোতে দাম এখনো যৌক্তিক। তাই দাম নিয়ে খুব একটা দর কষাকষি করতে হচ্ছে না। তিনি বলেন, বাচ্চাদের জন্য বেশি কেনা হয়, বড়দের চাইতে। ওদের চাওয়া পাওয়াটা আমাদের কাছে অনেক বড়।

লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ক্রেতারা ঈদ বাজার নির্বিঘেœ করতে বটতলী মোটর ষ্টেশনে একটি পুলিশী টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা প্রতিনিধি জানান, ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে পাইকগাছায় বিপনী বিতানগুলোতে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরেও পৌর সদর, বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি, বাঁকা বাজার সহ গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনা কাটা। প্রচন্ড গরমের মাঝে ঈদের কয়েকদিন বাকী থাকতেই কেনা কাটার কাজ সেরে নিচ্ছেন বেশির ভাগ মানুষ। বিপনী বিতানগুলোতে পুরুষের চেয়ে কিশোর-কিশোরী ও রমনীদের উপস্থিতি বেশি রয়েছে।

বিগত বছর বিভিন্ন নামে কিছু পোশাকের পরিচয় কিংবা কেনা কাটার ধুম পড়লেও এ বছর মার্কেটগুলোতে এমন বিশেষ কোন পোশাকের পরিচয় কিংবা কেনাকাটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পাখি, ঝিলিক, লেহেঙ্গা পোশাকের চাহিদা না থাকলেও পোশাক কেনার কোন কমতি নেই কিশোর-কিশোরী কিংবা রমনীদের মধ্যে।

পাইকগাছার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এবারের ঈদে বেশি বিক্রি হচ্ছে সুতি কাজ করা থ্রি-পিচ। যার মূল্য ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কাজ করা জর্জেট থ্রি পিচ যার মূল্য ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। সিল্ক ৪ পার্ট ও ৪ পার্ট থ্রি পিচ ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। বাটিক কাজ করা থ্রি পিচ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। এদিকে শিশুদের পছন্দের ইন্ডিয়ান ফ্রোগের মূল্য ১ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। গাউন পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

মার্কেটে আসা নারী ক্রেতা মুক্তা জানান, ঈদে প্রিয় মানুষের কাছ থেকে উপহার হিসেবে নতুন পোশাক পাওয়ার আনন্দই আলাদা। এবারের ঈদে তিনি উপহার হিসেবে সুঁতির কাজ করা থ্রি পিচ পেয়েছেন বলে জানান।

ফজলু ক্লথ স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী মো. ফজলুর রহমান জানান, কোন বিশেষ পোশাকের বদলে ক্রেতারা তাদের পছন্দমত পোশাক কিনছে। কেনাকাটাও ইতোমধ্যে বেশ জমে উঠেছে। নিউ লুক বিপনীর সত্তাধিকারী মোনালিসা জানান, এবারের ঈদে গাউন, ওয়ান পিচ হাতের কাজের পাঞ্জাবী, বাচ্চাদের রেডিমেট ড্রেস ও এর পাশাপাশি ডিজাইন দিয়ে কাজ করা পোশাকের চাহিদা রয়েছে এবং সাধারণ ক্রেতারা এ ধরণের পোশাক কিনছে এবং অর্ডার দিচ্ছে।

ঈদের সময় আরো কিছুটা ঘনিয়ে এলে ঈদের কেনাকাটা শেষ মুহুর্তে অনেক বেশি জমজমাট হবে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।

"