শাহজাদপুরের গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

গরমে কমেছে দুগ্ধ উৎপাদন হিটস্ট্রোকের ভয়

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০

হাসানুজ্জামান তুহিন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

দেশজুড়ে চলা দাবদাহে গবাদিপশু নিয়ে পড়েছেন বিপাকে শাহজাদপুরের হাজার হাজার খামারি। গরমে এসব খামারের দুধের উৎপাদন অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। এমনকি গবাদির হিটস্ট্রোক রোধে দিনে তিন-চারবার গোসল করাতে হচ্ছে বলে জানান খামারিরা।

শাহজাদপুরের প্রায় পৌনে ৩ লাখ গরু রয়েছে, আর খামারর রয়েছে ১১ হাজার। এর মধ্যে উন্নত জাতের দুধের গাভী রয়েছে। এছাড়াও প্রায় এক লাখ ছাগল ভেড়া রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে মাসের অধিক সময় ধরে চলা দাবদাহে পুকুর, নদী ও জলাশয়ের পানি প্রচন্ড গরম হওয়ায় গরু গোসল করানো সম্ভব হচ্ছে না। সামর্থ্যবান খামারিরা বাড়িতে পানির পাম্প বসিয়ে নিলেও ছোট ছোট খামারিরা গরু নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে।

উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরাচিথুলিয়া গ্রামের জমেলা বেগম, পোরজনা ইউনিয়নের ছোট মহারাজপুর গ্রামের বসির উদ্দিন, গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ গ্রামের ইয়াকুব আলী, সৈয়দ আলী নরিনা ইউনিয়নের জুগনীদহ গ্রামের জুরান ফকির বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বাছুর কিনে লালন পালন করছেন। এগুলো সামনের কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রচন্ড গরমে তাদের পক্ষে গরু লালন পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। প্রচন্ড গরমে হিটস্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষার জন্য দুধের গাভীকে দিনে তিন থেকে চার বার ঠান্ডা পানিতে গোসল করানো হচ্ছে চিকিৎসকের পরামর্শে।

প্রবীণ চিকিৎসক ডা. গোলজার হোসেন জানান, আমাদের দেশে খামারিরা এখন উন্নত জাতের গাভী লালন পালন করে থাকে। শীত মৌসুমে এসব গাভী থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ দুধ পাওয়া গেলেও গরমে কাক্সিক্ষত পরিমাণ দুধ পাওয়া যাচ্ছে না। এজন্য ঠান্ডা পানিতে গাভীকে দিনে তিন থেকে চারবার গোসল করানো দরকার।

একই কথা উল্লেখ করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, এই দাবদাহে হিটস্ট্রোকের হাত থেকে রক্ষা করতে গবাদি প্রাণীকে পর্যাপ্ত বাতাস ও ঠান্ডা স্থানে রাখা।

তবে পৌর এলাকার আবদুর রশিদ ফকির জানান, মাঠেও প্রচ- গরম আবহওয়া এবং বাড়িতে ফ্যান ও দিনে তিন থেকে চারবার পানিতে দিয়ে গোসল করিয়েও গরুকে ঠিক রাখা যাচ্ছে না। অপরদিকে, একটানা দাবদাহ না থাকলেও দিনে প্রচন্ড গরম এবং রাতে তুলনামূলক হারে ঠান্ডা পড়ায় গরুকে আবার বেশি করে গায়ে পানিও দেয়া যাচ্ছে না। এতে করে গরুর গায়ে সর্দি জ্বর আশার ভয় রয়েছে।

 

"